গাজা যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে রোববার (ওয়াশিংটন সময় সন্ধ্যা ৬টা বা গ্রিনিচ সময় রাত ১০টা) পর্যন্ত হামাসকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ‘এই শেষ সুযোগের চুক্তি যদি না হয়, তাহলে হামাসের ওপর এমন খারাপ অবস্থা নেমে আসবে যা কেউ কোনোদিন দেখেনি। যেভাবেই হোক, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে।’
এই পরিকল্পনায় প্রস্তাব করা হয়েছে- অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে, পাশাপাশি নিহতদের মৃতদেহও ফিরিয়ে দেবে। এর বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল।
আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা হামাসকে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, গোষ্ঠীটি প্রস্তাবটি সম্ভবত প্রত্যাখ্যান করবে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গাজার ভেতরে হামাসের সামরিক শাখার প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, এবং তিনি নতুন এই যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা সমর্থন করেননি। তবে কাতারে থাকা হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কিছু সদস্য পরিকল্পনাটি কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রহণ করতে আগ্রহী। যদিও জিম্মিদের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রভাব ফেলতে পারছেন না।
আরেকটি বড় প্রতিবন্ধকতা হলো, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই হামাসকে সব জিম্মিকে ছেড়ে দিতে হবে।
বিবিস জানিয়েছে, এখনো হামাসের হাতে ৪৮ জন জিম্মি রয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলের দক্ষিণে চালানো হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে।
হামাস-চালিত গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তখন থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬৬ হাজার ২৮৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

