যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিত ট্রাম্প প্রশাসনের

শনিবার,

২৯ নভেম্বর ২০২৫,

১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

শনিবার,

২৯ নভেম্বর ২০২৫,

১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

Radio Today News

যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিত ট্রাম্প প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৬, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

আপডেট: ১১:০৭, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

Google News
যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিত ট্রাম্প প্রশাসনের

ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করছে। এর ফলে কোনো আবেদন সম্পর্কে অনুমোদন, বাতিল বা বন্ধ করা জাতীয় কোনো রকম সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর পরিচালক জোসেফ এডলো এই তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে এডলো বলেন, এই বিরতি চলবে "যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে প্রতিটি বিদেশি সর্বোচ্চ মাত্রায় যাচাই ও পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।"

এই ঘোষণা আসে কয়েক ঘণ্টা পর, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে সব "তৃতীয় বিশ্বের দেশ" থেকে অভিবাসন "স্থায়ীভাবে স্থগিত" করবেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, বুধবারের গুলির ঘটনায় আহত এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মারা গেছেন। এ ঘটনার জন্য একজন আফগান নাগরিককে দায়ী করা হয়েছে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি দপ্তর ইউএসসিআইএস-এর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কোনো আশ্রয় আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বন্ধ না করেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা আবেদন প্রক্রিয়ার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছালে থামতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে: "একবার সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছালে, থামুন এবং স্থগিত রাখুন।"

শুক্রবারের নির্দেশনা ও ট্রাম্পের আগের মন্তব্য সম্পর্কে এখনও খুব কম তথ্য পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প বলেননি কোন কোন দেশ তার পরিকল্পনার আওতায় পড়বে। এমন পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এর বিরোধিতা করেছে।

উভয় ঘোষণাই বুধবারের প্রাণঘাতী হামলার পর এসেছে এবং এগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরছে।

অন্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ট্রাম্প অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কার, শরণার্থী গ্রহণের বার্ষিক সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সকলের জন্য প্রযোজ্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের চেষ্টা করেছেন।

বুধবারের গুলির ঘটনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমন সব বিদেশিকে বহিষ্কার করবেন "যে কোনো দেশ থেকে যারা এখানে থাকার যোগ্য নয়।"

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র আফগান নাগরিকদের সব অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে বলেছে, "নিরাপত্তা ও যাচাই প্রক্রিয়া" পর্যালোচনার অপেক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এরপর বৃহস্পতিবার ইউএসসিআইএস জানায়, তারা ১৯টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের দেওয়া গ্রিন কার্ড পুনঃপর্যালোচনা করবে। সংস্থাটি সরাসরি বুধবারের হামলার কথা উল্লেখ করেনি।

বিবিসি জানতে চাইলে ইউএসসিআইএস হোয়াইট হাউসের জুন মাসের এক ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম ছিল। পুনঃপর্যালোচনা কীভাবে হবে সে বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় দুই অংশে লেখা এক পোস্টে প্রতিশ্রুতি দেন, "অ-নাগরিকদের সব ধরনের ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করবেন।"

ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা "সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার" করতে পারবে, যা অনেক আমেরিকানের "অর্জন ও জীবনযাত্রার মান" ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

'তৃতীয় বিশ্বের দেশ'

পোস্টে প্রেসিডেন্ট শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে "সামাজিক বিশৃঙ্খলা" সৃষ্টির জন্য দায়ী করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন এমন যে কাউকে সরিয়ে দেবেন "যিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসলে সম্পদ নন।"

তিনি বলেন, "সোমালিয়া থেকে আসা কয়েক লক্ষ শরণার্থী একসময়ের মহান মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যকে পুরোপুরি দখল করে নিচ্ছে।" মি. ট্রাম্প এজন্য ওই অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্য করে বিশেষভাবে কটাক্ষ করেন।

ট্রাম্প লিখেছেন: "আমি স্থায়ীভাবে সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করতে পারে।"

"তৃতীয় বিশ্ব" শব্দগুচ্ছ অতীতে দরিদ্র, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।

প্রেসিডেন্ট এর আগেই আফগানিস্তানসহ আফ্রিকা ও এশিয়ার আরও ১১টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তার প্রথম মেয়াদে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলোর ওপরও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

জাতিসংঘ ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তার প্রশাসনকে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন: "আমরা আশা করি সব দেশ, যুক্তরাষ্ট্রসহ, ১৯৫৩ সালের শরণার্থী কনভেনশনের অধীনে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে।"

আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জেরেমি ম্যাককিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের "বলির পাঁঠা বানানো" হিসেবে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াকে বর্ণনা করেছেন।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের নিউজডে অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের আগে ম্যাককিনি বলেন, হামলাকারীর উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি।

তিনি বলেন: "এ ধরনের ঘটনা ত্বকের রঙ জানে না, জাতীয়তা জানে না। যখন কেউ চরমপন্থায় জড়িয়ে পড়ে বা মানসিক অসুস্থতায় ভোগে, সে যে কোনো পটভূমি থেকে আসতে পারে।"

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের