মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় সংঘাতের এক ভয়াবহ নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ইরাকের বসরার কাছে পারস্য উপসাগরে মার্কিন মালিকানাধীন একটি অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারে ইরানের ‘ড্রোন’ হামলায় একজন ভারতীয় ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার ( ১১ মার্চ) চালানো এই হামলায় ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা জ্বালানি পরিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আক্রান্ত জাহাজটির নাম 'সেফসি বিষ্ণু', যা মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং মার্কিন ভিত্তিক কোম্পানি সেফেসি ট্রান্সপোর্ট ইনকর্পোরেটেডের মালিকানাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রের খবর অনুযায়ী, বসরার নিকটবর্তী জলসীমায় অবস্থানকালে পানির নিচ দিয়ে আসা ড্রোন জাহাজটিতে আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণ পরেই পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত 'জেফাইরোস' নামক গ্রিক মালিকানাধীন ও মাল্টিজ-পতাকাবাহী আরেকটি তেল ট্যাঙ্কারেও আগুন ধরে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা পানির নিচে চালিত ড্রোন ব্যবহার করে দুটি তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।
বাগদাদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাহাজে থাকা বাকি ১৫ জন ভারতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দূতাবাস বর্তমানে ইরাকি কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকৃত নাবিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে যাতে তাদের দ্রুত দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা যায়।
এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত তুঙ্গে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন মালিকানাধীন জাহাজে ইরানের এই সরাসরি আঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের জলপথ দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র- এনডিটিভি
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

