রোববার,

১৬ মে ২০২১

কোন দেশে কত মানুষ পেল করোনার ভ্যাকসিন?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৫, ৩ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০৭:৪৯, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

কোন দেশে কত মানুষ পেল করোনার ভ্যাকসিন?

ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে মহামারি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদান। ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্বে ভ্যাকসিন দেওয়ার এটাই সর্বোচ্চ হার।

ইসরায়েলে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১১ দশমিক ৫৫ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। তার পরের স্থানে রয়েছে বাহরাইন। সেদেশে এই হার ৩ দশমিক ৪৯। তৃতীয় স্থানে ব্রিটেন, হার ১ দশমিক ৪৭।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ওয়েবসাইট, যারা বিশ্বব্যাপী এর ওপর নজর রাখছে তারা এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে। যাদেরকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে এই হিসেবে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসর প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত যেসব ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের ব্যবধানে সেগুলোর দুটো ডোজ দিতে হবে। তারা বলছে, ফ্রান্সে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১৩৮ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট ছিল ২০২০ সালের মধ্যে দুই কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা প্রায় ২৮ লাখ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে।

যে কারণে ইসরায়েল শীর্ষে

ইসরায়েল ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর। সেদেশে প্রতিদিন দেড় লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ষাটোর্ধ ব্যক্তি ছাড়াও স্বাস্থ্য-কর্মী এবং যারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মহামারি শুরু হওয়ার পর পরই ইসরায়েল ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য ফাইজার-বায়োঅ্যানটেকের সঙ্গে সমঝোতা সেরে ফেলে।

এর পর দেশটি ধাপে ধাপে ফাইজারের টিকার চালান নিশ্চিত করে। এই টিকাটি মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।

ফ্রান্স যে কারণে পিছিয়ে

ফ্রান্সে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে ২৭ ডিসেম্বর। বছরের শেষ দিকে তারা ১৩৮ জনকে টিকা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ দিকে জার্মানিতে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

মানুষকে টিকা দেওয়ার পেছনে একটি বড় সমস্যা হিসেবে কাজ করেছে এর কার্যকারিতার বিষয়ে মানুষের আস্থার অভাব। এ বিষয়ে ১৫টি দেশে একটি জরিপ চালানো হয়। দেখা গেছে ফ্রান্সে মাত্র ৪০% মানুষ জানিয়েছে যে তারা টিকা নিতে আগ্রহী। কিন্তু চীনে এই হার ৮০%, ব্রিটেনে ৭৭% এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৬৯%।

প্রতিবেশী দেশ ভারত কী করছে?

ভারতে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়ার কর্মসূচির এক দেশব্যাপী মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির সরকারের একটি প্যানেলের মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি অনুমোদন করেছে এবং দেশটি এ বছরের মাঝামাঝি নাগাদ ৩০ কোটি মানুষকে এই ভ্যাকসিন দিতে চায়।

ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেছেন, টিকা দেওয়ার মহড়ায় হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীকে জড়িত করা হচ্ছেযার লক্ষ্য হলো দক্ষতা তৈরি করা এবং টিকাদানের সময় যেন কোনো সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করা।

প্রসঙ্গত, ভারতে করোনাভাইরাসে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে এক কোটিরও বেশি মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ভারত।