সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আগমন ও দৈনিক উপস্থিতি আরও নিবিড়ভাবে মনিটরিং করতে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার।
সোমবার (১৫ জুন) থেকে দেশব্যাপী এই উপস্থিতি ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটের মধ্যে হাজিরা খাতার ছবি তুলে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সময়মতো তথ্য না পাঠালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
ডিপিই সূত্র জানায়, সারা দেশের প্রায় চার লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের উপস্থিতি এই ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম জোরদার করা।
নতুন প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষক উপস্থিত ও অনুপস্থিত—তার তথ্যসহ হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা বা থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। এরপর ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সেই তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পৌঁছাবে।
এতে প্রতিদিন সকাল পৌনে ১০টার মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো দেশের উপস্থিতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের গুগল শিটেও নিয়মিত তথ্য আপডেট দিতে হবে।
অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, উপস্থিতি সংক্রান্ত ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান কিংবা তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূলত প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিক্ষকদের ফাঁকিবাজি রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষক যদি উপস্থিতির বিষয়ে কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য দেন, কিংবা তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

