যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে নিজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার যে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তার প্রায় এক মাস পর প্রথমবার জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন ক্রিস্টা পাইক। ৫০ বছর বয়সী এই বন্দী জানান, তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন ঠিকই, তবে ‘সুস্থ হয়ে ওঠা মানে ঠিক হয়ে যাওয়া নয়’।
তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পাইক মুখে বলে গেছেন, যা তারা লিখে নিয়েছেন। বিবৃতিতে পাইক জানান, ওই রাতের পর থেকে তিনি এক মুহূর্তও ব্যথা ছাড়া কাটাননি। ‘আমার শরীর ব্যথা করে। আমার হাত ব্যথা করে। আমার গলা ব্যথা করে। এখনো আমার কথা বলতে কষ্ট হয়,’ বলেন তিনি। এই বন্দীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যথা কেবল শারীরিক নয়; মনের ও আত্মার ভেতরেও ব্যথা রয়েছে।
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সহপাঠী কলিন স্লেমারকে ১৯৯৫ সালে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা চালায় টেনেসি। প্রাণঘাতী ইনজেকশন হিসেবে পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হলেও প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় และ রাখা হয় ভেন্টিলেটরে। আইনজীবীরাও আশা করেননি তিনি বেঁচে উঠবেন। তবে পরে জ্ঞান ফিরে পাইক কথা বলতে শুরু করেন এবং সহযোগিতা নিয়ে হাঁটাচলা করেন।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে প্রাণঘাতী রাসায়নিক প্রয়োগের পর বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি পাইক। ১০ দিন হাসপাতালে থাকার পর চলতি মাসের শুরুতেই তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং এখনো তার চিকিৎসা চলছে। পাইক জানান, এরপর থেকে তিনি কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ডে অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। ‘আমি ২৮ বছর একক কারা কক্ষে কাটিয়েছি; এখন যা ভুগছি, তার অনেকটাই ওই অবস্থার পুনরাবৃত্তি,’ বলেন তিনি।
আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সম্ভাব্য চেষ্টা ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পাইক। নতুন প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতি পরীক্ষিত নয় এবং এতে অতিরিক্ত যন্ত্রণা, ভোগান্তি ও অবমাননার আশঙ্কা রয়েছে বলে গত জানুয়ারিতে তার আইনজীবীরা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। বুধবার... সংশ্লিষ্ট মামলায় বৃহস্পতিবার আদালত পাইককে জানুয়ারির শেষ দিকে নতুন করে আবেদন করার সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন; তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ সময় দেয়া হয়।
ব্যর্থ এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি। চলতি বছরে নির্ধারিত আরেকটি মৃত্যুদণ্ডও তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছেন। তবে পাইকের সাজা মওকুফের সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন বিল লি। ‘তিনি টেনেসি অঙ্গরাজ্যের আইনের অধীনেই কারাগারে আছেন; আদালত ভিন্নভাবে নির্ধারণ না করলে তার সাজা আগের মতোই থাকবে বলে আমি মনে করি,’ বলেন তিনি।
এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতা নিহত কলিন স্লেমারের পরিবারকেও ক্ষুব্ধ করেছে। স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ বলেন, ‘আমি মনে করি, অঙ্গরাজ্য আমার কাছে বড় ধরনের ক্ষমা চাওয়ার দায়িত্বে আছে।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

