সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় সীমান্ত নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে সমাপ্ত তিন দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক ফোরামে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
চীনের পিপলস আর্মড পুলিশ ফোর্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘গ্রেট ওয়াল-২০২৬ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী ফোরাম’-এ ৬২টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ৩২০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।
সামরিক বাহিনী, সীমান্ত নিরাপত্তা ও পুলিশ বিভাগের সদস্যদের পাশাপাশি শুল্ক কর্মকর্তা এবং গবেষকরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
চীনে নিযুক্ত লেবাননের দূতাবাসের সামরিক প্রতিনিধি মোহাম্মদ দাহের স্থলসীমান্ত নিরাপত্তায় নজরদারি সরঞ্জাম, নথিপত্র যাচাই, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের সমন্বিতব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে তা ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের দক্ষতার ওপর।‘
দাহের বলেন, ‘এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য দক্ষ মানুষের প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা কোথায় আছে বা কীভাবে চলাচল করছে, তা কার্যকরভাবে বোঝা সম্ভব। ইনফ্রারেড ক্যামেরার সাহায্যে রাতের অন্ধকারেও তাদের গতিবিধি শনাক্ত করা যায়। তাই এক্ষেত্রে প্রযুক্তি অত্যন্ত জরুরি; ড্রোনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান আমাদের প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।‘
ফোরামে জলপথ, বন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নজরদারি চালানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা হয়। জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসী হুমকি থেকে এসব স্থাপনা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিনিধিরা।
এশিয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচল সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তি—রিক্যাপের তথ্য আদান-প্রদান কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক বিজয় ডি. চাফেকার।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

