এখন বড়দের মতো অনেক তরুণও কিডনির পাথরের সমস্যায় ভোগেন। আবার অনেকে ভোগেন মূত্রথলির পাথরের সমস্যায়। এ ধরনের সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কিডনিতে পাথরের লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে অনেকটা ঠিক হয়ে যায়। সমস্যা হলো অনেকেই লক্ষণগুলো অবহেলা করেন। পরে তা জীবনকে নিয়ে যায় হুমকির মুখে।
পিঠের ব্যথা
যাদের কিডনিতে পাথর হয়, তাদের প্রায়শই পিঠের নিচের অংশে বা মেরুদণ্ডের দুই পাশে তীব্র ব্যথা হয়। ব্যথা শ্রোণী অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এই ব্যথা পেট ও শ্রোণীতে ছড়িয়ে যায়, যার ফলে দাঁড়ানো বা হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে। এই লক্ষণগুলো দ্রুত বুঝতে পারলে চিকিৎসা নিন।
প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা
যখন কিডনি ও মূত্রাশয়ের সংযোগকারী নালীর মাঝে পাথর আটকে যায়, তখন প্রস্রাবের সময় আপনি ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এই অস্বস্তি বেশ বিরক্তিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা একে ডিসইউরিয়া বলে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য এই লক্ষণগুলো আগেই শনাক্ত করা জরুরি।
প্রস্রাবে রক্ত
কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ, যা হেমাটুরিয়া নামে পরিচিত। এই রক্তলাল, গোলাপি বা বাদামী রঙের হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, রক্তকণিকাগুলো এতটাই ছোট হয় যে মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না।
বমি বমি ভাব ও বমি
কিডনিতে পাথর হলে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া সাধারণ লক্ষণ। এই উপসর্গগুলো কিডনি এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে থাকা আন্তঃসংযুক্ত স্নায়ু থেকে উদ্ভূত হয়। কিডনিতে পাথর থাকলে তা পরিপাকতন্ত্রের এই স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে, যার ফলে পেটে অস্বস্তি হয়। এছাড়াও, তীব্র ব্যথার প্রতিক্রিয়ায় বমি বমি ভাব হতে পারে। এমনকি বমি হতে পারে।
জ্বর ও কাঁপুনি
জ্বর ও কাঁপুনি কিডনি বা মূত্রনালীর সংক্রমণের আরো একটি লক্ষণ। কিডনিতে পাথর হলেও এমনটা হতে পারে। এ লক্ষণগুলো অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে। জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

