বগুড়ায় আতিকুল ইসলাম সাগর (২৮) নামে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বগুড়া সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় বুধবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আতিকুর রহমান সাগর মণ্ডল শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মণ্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাগর মণ্ডলের বিরোধ চলছিল। তিনি স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি গ্রামে বসবাস করতেন। বুধবার রাত দুইটার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরে খাচ্ছিলেন। এ সময় সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বাইরে হইচই শুনে তার স্ত্রী মারজিয়া খাতুন ঘর থেকে বের হন।
মারজিয়া খাতুন বলেন, তখন সাগরের চাচাতো ভাই জুলহাসসহ ২০ থেকে ২৫ জনে টিনের গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে ঢুকে সাগরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মারজিয়া খাতুন বলেন, স্বামীকে বাঁচাতে আমি চিৎকার শুরু করলে তারা আমাকেও হুমকি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা মানিকচকের শাওনের বাড়ির দিকে আমাদের পিছু নেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে সাগর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, নিহত সাগর মণ্ডলের বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

