দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উজানের ভারতীয় অংশে অব্যাহত বর্ষণের ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩টি নদীর পানি ৪টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ৩টি জেলায় নদীতীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বর্তমানে ৪টি স্টেশনে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়াও পাউবোর পর্যবেক্ষণাধীন মোট ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৫টি স্টেশনে, হ্রাস পেয়েছে: ৪৮টি স্টেশনে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২টি স্টেশনে।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বিপদসীমার কাছাকাছি (সতর্কসীমায়) প্রবাহিত হচ্ছে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি। এরমধ্যে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ স্টেশন, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর (সিলেট) স্টেশন, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) স্টেশন, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম স্টেশন, তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (রংপুর), তারাপুর ও হরিপুর (গাইবান্ধা) পয়েন্ট, ব্রহ্মপুত্র নদীর হাতিয়া ও চিলমারী (কুড়িগ্রাম) স্টেশন, যমুনা নদীর সাঘাটা (গাইবান্ধা), সারিয়াকান্দি (বগুড়া) এবং জগন্নাথগঞ্জ (জামালপুর) স্টেশন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ সিরাজগঞ্জে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে ৭৯, চাঁদপুরে ৭০ এবং বরগুনায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়াও দেশের উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পংয়ে ১২০ মিলিমিটার এবং দার্জিলিংয়ে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীতীরবর্তী জনগণকে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

