মঙ্গলবার,

২০ অক্টোবর ২০২৬,

৫ কার্তিক ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

২০ অক্টোবর ২০২৬,

৫ কার্তিক ১৪৩৩

Radio Today News

বাস-ট্রাক সংঘর্ষ

‘আল্লাহ আমারে নিলা না কেন, আমার ছেলেরে কেন নিয়া গেলা’ 

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:১৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬

Google News
‘আল্লাহ আমারে নিলা না কেন, আমার ছেলেরে কেন নিয়া গেলা’ 

মঙ্গলবার দুপুরে সোহাগ শিকদারের বাড়ির সামনে যেতেই শোনা যায় তাঁর মা মিলি বেগমের বিলাপ। বুক চাপড়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘আল্লাহ আমারে নিলা না কেন? আমার ছেলেরে কেন নিয়া গেলা?’ মায়ের এই আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর স্বজনদের সান্ত্বনা কোনো কিছুতেই যেন থামছিল না তাঁর বুকফাটা আর্তনাদ। যে ছেলেকে ঘিরে ছিল বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সেই ছেলের নিথর দেহ ফেরার অপেক্ষায় এখন তাঁর পরিবার।

সোহাগ শিকদার (৩০) ছিলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ডুবিসায়বর এলাকার বাসিন্দা। ব্যবসার কাজে অন্য চার ব্যবসায়ীর সঙ্গে বের হয়েছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল রাজশাহীর তাহেরপুর থেকে কৃষিপণ্য কিনে এনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা। কিন্তু পণ্য কেনার আগেই নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে যায় তাঁদের পথচলা। একসঙ্গে যাত্রা করা পাঁচ ব্যবসায়ীর কেউই আর ফিরতে পারেননি বাড়িতে।

আজ ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ১৪ জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জনের বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাজিরার ডুবিসায়বর, কাজীরহাট ও আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন- জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জুয়েল মাদবর (৪০), ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার সালাল মোল্যা (৪৫), ডুবিসায়বর কাজীরহাট এলাকার সোহাগ শিকদার (৩০), কাজীরহাট এলাকার সামাদ ফকির (৬৫) এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার শাহিন ব্যাপারী (৩০)। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজীরহাট ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। মৌসুমের শুরুতে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনতে রাজশাহীর তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন তাঁরা। 

নিহত সোহাগের মায়ের আহাজারির মতোই অন্য নিহতদের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। কেউ হারিয়েছেন ভাই, কেউ স্বামী, কেউবা পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। যাঁরা পরিবারের ভরণপোষণ ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন, তাঁদের এমন মৃত্যুতে দিশেহারা স্বজনেরা।

নিহত জুয়েল মাদবরের বড় ভাই শাহজাহান মাদবর জানান, আগের রাতে জুয়েল তাঁকে ফোন করে ব্যবসার কাজে নাটোর যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কোথা থেকে বাসে উঠবেন, সে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সকালে ফোনে তিনি জানতে পারেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর ভাই।

নিহত সালাল মোল্যার বড় ভাইয়ের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, ব্যবসার মালামাল কিনতে আগের দিন তিনি নাটোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ব্যবসায়িক পরিচিতজনেরা। সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা ভেঙে পড়েন। 

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, নাটোরের সড়ক দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের জাজিরার ৫ জন মারা গেছেন। নিহতাদের পরিবারের লোকজন লাশ আনতে গেছেন। এর মধ্যে জুয়েল মাদবর নামে একজনের লাশ চলে এসেছে। শুনেছি তাকে রাতেই দাফন করা হবে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের