হঠাৎ শরীর ঘুরিয়ে নেওয়া, দ্রুত এক পা থেকে অন্য পায়ে ভর সরানো কিংবা জোরে কাঁধ ঝাঁকানো— প্রায় এক দশক আগে বেইজিংয়ের একটি নাচের ক্লাসে শেখানো এসব মুদ্রা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর অনুপ্রেরণায় লাখ লাখ মানুষ চীনা লোকনৃত্য শেখার চেষ্টা করছেন।
চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের দেওয়া নাম অনুযায়ী, ‘শানশেন স্টেপ’ ও ‘বেয়ার শেকিং অফ ইটস ফার’—এই দুই নাচের মুদ্রা অপ্রত্যাশিতভাবে ভাইরাল হয়েছে। এগুলো অনুকরণ করে নানা ভিডিও, হাস্যরসাত্মক সংস্করণ ও অনলাইন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন মানুষ।
কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ‘শানশেন স্টেপ’ আয়ত্ত করতে পারলে অফিসগামীদের ভিড়ে ঠাসা মেট্রোতে সহজেই জায়গা করে নেওয়া যাবে। আবার কেউ কাজ ফাঁকি দিয়ে চুপিসারে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস করতে এসব মুদ্রা ব্যবহার করছেন। সময়ের সঙ্গে এই প্রবণতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। অনেকে নিজেদের মতো করে নাচের মুদ্রায় পরিবর্তন আনছেন। মজার মাত্রা বাড়াতে যুক্ত করছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি চরিত্রও।
তবে মজার এই মুদ্রাগুলো ইন্টারনেটে তৈরি হয়নি। দুটিই চীনের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য থেকে এসেছে। প্রায় এক দশক আগে বেইজিং ড্যান্স অ্যাকাডেমির শিক্ষামূলক উপকরণের অংশ হিসেবে এগুলোর ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওতে মুদ্রাগুলো প্রদর্শন করেছিলেন চীনের নৃত্যজগতের সম্মানিত দুই অভিজ্ঞ শিল্পী চাও থিয়েছুন ও মিং ওয়েনচুন।
এখন চীনের বাইরেও ভিডিওগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মার্থা গ্রাহাম ড্যান্স কম্পানি আগামী নভেম্বরে চীনে পরিবেশনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে দলটির প্রধান নৃত্যশিল্পী সিন ইয়িং ও লয়েড নাইট এই প্রবণতায় যোগ দিয়ে নিজেদের মতো করে মুদ্রা দুটি পরিবেশন করেছেন।
নৃত্যমুদ্রা দুটির অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা চীনা লোকনৃত্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
‘বেয়ার শেকিং অফ ইটস ফার’ এসেছে শানতোং প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য শানতোং কুচি ইয়াংক্য থেকে। এই নৃত্য সাধারণত পুরুষেরাই পরিবেশন করেন। এতে থাকে জোরালো শারীরিক মুদ্রা ও ছন্দবদ্ধ পদক্ষেপ। ঢোল এই নৃত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অনুষঙ্গ।
থিয়ান লুয়ের কাছে অবশ্য নৃত্যমুদ্রাগুলোর আকর্ষণ পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, ‘লোকনৃত্যশিল্পীরা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করেন। তাদের মুদ্রায় কঠোর নিয়মের বাঁধাধরা কাঠামো থাকে না।‘
শানশেন স্টেপের প্রদর্শক চাও থিয়েছুন এই ভাইরাল জনপ্রিয়তাকে একই সঙ্গে বিস্ময়কর ও বোধগম্য বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘এটি অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে এক অর্থে এমনটা ঘটতে পারে, সেটিও অনুমেয় ছিল। চীনা লোকনৃত্যের মধ্যে থাকা জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। এসব শিক্ষামূলক ভিডিও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করছে। একই সঙ্গে এগুলো লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণেও সহায়তা করছে।‘
তবে ভাইরাল এই দুই নাচের মুদ্রা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছে সিসিটিভি নিউজের বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া এসব মুদ্রা অনুকরণ করলে হাঁটুতে আঘাত লাগার ঝুঁকি রয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

