দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র; চাঞ্চল্যকর এই তথ্য এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
দুর্গের মতো অতি সুরক্ষিত বাসভবন থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাদুরোকে বন্দি করা সম্ভব হয় মূলত তার এক ঘনিষ্ঠ বিশ্বাসভাজনের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদুরোর অত্যন্ত কাছের একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কাছে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করছিলেন। মাদুরোর অবস্থান, দৈনন্দিন সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য আগেই হাতে থাকায় অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে ওঠে।
‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামে এই অভিযানে অংশ নেয় মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, সিআইএ ও এফবিআই। কয়েক মাস ধরে এর প্রস্তুতি চলছিল। মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর নিরাপদ আবাসনের অনুরূপ একটি কাঠামো তৈরি করে সেখানে নিয়মিত মহড়া চালায়।
সূত্র জানায়, গত আগস্ট থেকেই সিআইএর একটি ছোট দল ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ছিল। তারা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয়। সব প্রস্তুতি শেষে চারদিন আগে অভিযানের অনুমোদন দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবহাওয়া অনুকূলে এলে শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুক্রবার গভীর রাতে কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। একই সঙ্গে ভারী অস্ত্রসহ স্পেশাল ফোর্স রাজধানীতে প্রবেশ করে। প্রতিরোধের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তারা মাদুরোর আবাসিক কমপাউন্ডে প্রবেশে সক্ষম হয়।
ভবনের ভেতরে ঢোকার পর মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন। অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কেউ নিহত হননি। পরে হেলিকপ্টারে করে তাদের ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, অভিযানের প্রায় সাত ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় মাদুরোর একটি ছবি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, মাদুরো তখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌজাহাজে ছিলেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

