প্রায় তিন বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন ডিম্পল ও হরবিন্দর। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি তাদের ব্রেকআপ হয়। ব্রেকআপের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হরবিন্দর মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েন এবং তার প্রেমিকাকে (সহকর্মী) অফিসেই ছুরি দিয়ে জখম করে হত্যা করেন। মর্মান্তিক এ ঘটনার ভিডিও অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পাঞ্জাবের মোহালিতে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মোহালির সেক্টর-৬৬ এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি প্যাকার্স অ্যান্ড মুভার্স প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণীর নাম ডিম্পল। অভিযুক্তের নাম হরবিন্দর মান, যিনি ‘হ্যারি’ নামেও পরিচিত।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ডিম্পল অফিসে নিজের কাজ করছিলেন। এ সময় হরবিন্দর পিছন থেকে এসে হঠাৎ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আক্রমণ করে। প্রাণ বাঁচাতে ডিম্পল পালানোর চেষ্টা করেন। সহকর্মীরাও তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন। কিন্তু অভিযুক্তের হামলা থামেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অফিসের ভেতরে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সহকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ডিম্পল গুরুতর আহত হন।
পরে হরবিন্দর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। সে নিজের গলায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দ্রুত স্থানীয় ফোর্টিস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা ডিম্পলকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে হরবিন্দর বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডিম্পল ও হরবিন্দর প্রায় তিন বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে হরবিন্দর মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অফিসে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এর কিছুক্ষণ পরই হরবিন্দর ছুরি নিয়ে ডিম্পলের ওপর হামলা চালায়।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কর্মক্ষেত্রে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মতো ব্যক্তিগত সংকট কখনোই সহিংসতার কারণ হতে পারে না। মানসিক চাপ বা হতাশা দেখা দিলে কাউন্সেলিং ও পরিবারের সহযোগিতা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্ত সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

