কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল পরিমাণ ব্যয় এবং প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অতিমূল্যায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে দেখা দেওয়া গভীর উদ্বেগের জেরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট থেকে শুরু করে এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারে এই পতনের বড় ঢেউ লেগেছে। অন্যদিকে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আভাস এবং সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। খবর এএফপির।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, চলতি মাসের শুরুতে রেকর্ড গড়া আইপিও চালুর পর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্কের রকেট ও এআই গ্রুপ ‘স্পেসএক্স’-এর শেয়ারের বড় পতন বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ফাটল ধরিয়েছে। স্পেসএক্স তাদের অবকাঠামো উন্নয়ন ও এআই খাতের খরচের জন্য বন্ডের মাধ্যমে নতুন করে ঋণ নেওয়ায় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ঋণনির্ভরতা নিয়ে বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর চেইন রিয়েকশন বা ধারাবাহিক প্রভাবে এএমডি, এনভিডিয়া ও ব্রডকমের মতো চিপ নির্মাতা জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
এই ধসের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে এশিয়ার বাজারে। সোমবার রেকর্ড উচ্চতায় লেনদেন শেষ করার পর, মঙ্গলবার চিপ জায়ান্ট এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের শেয়ারের দর এক ধাক্কায় ১২ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক ‘কোসপি’ এক দিনেই ১০ শতাংশ কমে গেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে জাপানের টোকিওতেও। সেখানে প্রযুক্তি খাতের বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক ১০ শতাংশ এবং টোকিও ইলেকট্রন ৬ দশমিক ২ শতাংশ দর হারিয়েছে। এর ফলে জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
শেয়ারবাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেই স্বস্তির খবর এসেছে তেলের বাজারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করায় হরমুজ প্রণালিতে আবারও স্বাভাবিকভাবে পণ্যবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে সাময়িকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বিশ্ববাজারে দ্রুতই ইরানি তেল আসার পথ সুগম হয়েছে।
সরবরাহ বাড়ার এই সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৬ ডলার ৯৭ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর প্রাথমিক দিনগুলোতে এই তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

