সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মোজাফফরের মামলার শুনানি করা হবে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন-বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আদেশ দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার সঙ্গে 'জন্ডু' নামে এক ব্যক্তির কথোপকথন হয়। জন্ডু নামটি সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি উদঘটন করতে গিয়ে দেখা যায়, 'জন্ডু' ছদ্মনামের ওই ব্যক্তিই মোজাফফর হোসেন। গত ১৬ বছরে তাদের মধ্যে নানা সময়ে কথা হয়। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে মোজাফফরের সংশ্লিষ্টতা পায় তদন্ত সংস্থা। এ কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেছে। তাকে বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল ১০টার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজনে মাসুদ-মোজাফফর দুজনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। পরে ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মোজাফফর ছিলেন তাদের অন্যতম।
জানা গেছে, এ সেনা কর্মকর্তা স্বাধীনতার পর জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পান। পরে বিতর্কিত রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে একীভূত হলে তিনি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে সুচতুর মোজাফফর কৌশলে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। সে সময় 'বিপ্লব সরকার' এবং 'জয় ব্যানার্জি' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অত্যন্ত গোপনে দেশে ফিরে আসেন এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমল থেকে নির্বিঘ্নে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। কললিস্টের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

