রংপুরে চার খুনের মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে

সোমবার,

২৪ আগস্ট ২০২৬,

৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সোমবার,

২৪ আগস্ট ২০২৬,

৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

রংপুরে চার খুনের মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ২৪ আগস্ট ২০২৬

Google News
রংপুরে চার খুনের মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত শিক্ষকের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার (২৪ আগস্ট) রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন।

তবে মামলার এজাহারে গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আসামি করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহারে যেভাবে ঘটনার বর্ণনা

মামলার এজাহারে গোপীনাথ চক্রবর্তী উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতার মুঠোফোন থেকে গণপতির শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর গণপতি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শুক্রবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পূজা চক্রবর্তী তার বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। তবে ফোনে কোনো কথা হয়নি। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা আবার বোনকে ফোন করেন। তখন পরিবারের চার সদস্যের মুঠোফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ হওয়ায় তিনি স্বামী বিপুল আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিন রাত সোয়া ৯টার দিকে বোনের বাড়িতে যান।

এজাহারে বলা হয়েছে, বাড়িটি তখন অন্ধকার ছিল এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তারা বাড়ির পাশের প্রতিবেশী দেবুর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানান।

এরপর পূজা চক্রবর্তী প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে বোনের বাড়ির ছাদে যান। সেখান থেকে জানালার লক ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতরে তাকিয়ে তিনি জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে ঘরের ভেতর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।

আসবাবপত্র এলোমেলো, হত্যার পর সাজানোর সন্দেহ

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২১ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিট থেকে ২২ আগস্ট সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেন।

বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে আলমারি, শোকেস, আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। এ অবস্থা দেখে হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্য কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরে থানায় গিয়ে মামলা করেন গোপীনাথ চক্রবর্তী।

দুই তরুণের স্বীকারোক্তি

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২-এ তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন, তা জানাতে রাজি হননি তিনি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের