মানি এক্সচেঞ্জে ডলার কেনা-বেচার নতুন দর নির্ধারণ

সোমবার,

২৪ আগস্ট ২০২৬,

৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সোমবার,

২৪ আগস্ট ২০২৬,

৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

মানি এক্সচেঞ্জে ডলার কেনা-বেচার নতুন দর নির্ধারণ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:১৫, ২৪ আগস্ট ২০২৬

Google News
মানি এক্সচেঞ্জে ডলার কেনা-বেচার নতুন দর নির্ধারণ

খোলা বাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন বিনিময় হার নির্ধারণ করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)। নতুন দর অনুযায়ী, মানি এক্সচেঞ্জে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা এবং ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করা হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ দর ঘোষণা করেন এমসিএবির সভাপতি এম এস জামান। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে, কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এম এস জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ডলারের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জারকে নতুন বিনিময় হার জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ডলারের বাজারে অস্থিরতার দায় কার?

ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমসিএবি সভাপতি বলেন, বাজারে অনৈতিক কারসাজির দায় মানি চেঞ্জারদের নয়, বরং ব্যাংকগুলোর। তার দাবি, মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি সীমিত হওয়ায় এ খাতের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানিপুলেশনের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে ডলার বাজারে অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে। অথচ বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই এর দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

এম এস জামান জানান, মানি চেঞ্জাররা মূলত নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা ক্যাশ কারেন্সি কেনাবেচা করে। তারা ইলেকট্রনিক বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্সও আনতে পারে না। বিদেশফেরত যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে নিয়ে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই তাদের ব্যবসার অন্যতম প্রধান উৎস।

তার ভাষ্য, প্রবাসীরা দেশে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এলে মানি চেঞ্জাররা তা কিনে বৈধ পথে বাজারে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতেও তারা ভূমিকা রাখে।

নীতিমালা সহজ করার দাবি

ডলারের দর নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা মানি চেঞ্জারদের নেই দাবি করে এমসিএবি সভাপতি বলেন, তাদের মূলধন ও ব্যবসার পরিধি বিবেচনায় নিয়ে ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দেশের মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার কেনাবেচা এবং শিডিউল ব্যাংকের জন্য বিনিময় হার নির্ধারণ করলেও মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকে না। এই বৈষম্য দূর করে বৈধভাবে ডলার লেনদেনের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জার ব্যবসা বন্ধে নীতি সহজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এম এস জামান জানান, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের