সোমবার,

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সোমবার,

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Radio Today News

অপ্রতিম হত্যা—৩ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন মা নাহিদা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:০৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
অপ্রতিম হত্যা—৩ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন মা নাহিদা

ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন আগে তার বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নেয় আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬)। এ ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্কে আছে কিনা? বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম।

সেই গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন আরেক আসমি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা?
এমন তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে কুবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে এসব প্রশ্ন তুলে ধরেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার।

তিনি বলেন, আমি গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত ম্যাডামের সঙ্গে ছিলাম।

তিনি আমাকে কিছু কথা জানিয়েছেন। চারজন অভিযুক্তকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফাহাদ। সে প্রায় ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর অফিসে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছে।

এ ছাড়া ম্যাডাম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় তিনি কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন নাকি তুহিনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল।

ড. কামরুন নাহাত শীলা বলেন, ম্যাডাম চান, পুলিশ তদন্ত করে বিষয়টি বের করুক—এই প্রতিশোধের জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না।

একই সঙ্গে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কিনা? এমন প্রশ্ন তুলেছেন নাহিদা বেগম।

আসামিদের বয়স যাচাইয়ে ডিএনএ টেস্টের দাবি জানিয়েছেন তিনি। মানববন্ধনে এ তথ্য জানিয়েছেন ড. কামরুন নাহাত শীলা।

 মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আজাদ হোসেন সরকার, কুবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকরা।

ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক শাহরিয়া আনাসের সম্পৃক্ততা পায়নি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। জিজ্ঞাসাবাদের শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুজনকে কুমিল্লা কারাগার থেকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদেরকে সেখানে পাঠানো হয়।

জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, রবিবার রাতে চার আসামিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে হাজির করা হলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত দুই কিশোর ফাহাদ ও কামরুলকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান দাবি করেছেন, আইফোনের লোভেই স্কুল শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল ৫-৬টার মধ্যে অপ্রতিমকে মেরে ফেলা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আরেকটি বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এক কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চাইছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/radio4to0da9y/public_html/details.php on line 536