স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য এখনো ক্ষমতা চায়নি জামায়াত : মির্জা ফখরুল

সোমবার,

২৯ জুন ২০২৬,

১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সোমবার,

২৯ জুন ২০২৬,

১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য এখনো ক্ষমতা চায়নি জামায়াত : মির্জা ফখরুল

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ২৮ জুন ২০২৬

আপডেট: ২৩:৩৬, ২৮ জুন ২০২৬

Google News
স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য এখনো ক্ষমতা চায়নি জামায়াত : মির্জা ফখরুল

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অতীতের সেই অবস্থান নিয়ে দলটির এখনো নতুন করে ভাবার সুযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করারও আহ্বান জানান তিনি।রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে বিরোধী দলের বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা ওই পাশে আছেন, তারা নানা সময় আমাদের ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেদের দিকেও একবার ফিরে তাকানোর।

১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আপনারা কখনো জাতির কাছে ক্ষমা চাননি। যদি সেই ভুল স্বীকার করতেন, তাহলে আজকের অনেক সমস্যাই সৃষ্টি হতো না।
জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আজমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি একসময় বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে তারা কোনো ভুল করেননি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, এখনো সময় আছে, আপনারা নতুন করে বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। ১৯৭১ সালের বিষয়ে আপনাদের স্পষ্ট বক্তব্য আমরা কখনো শুনিনি। যদি আপনারা সেই ইতিহাস স্বীকার করেন, তাহলে আপনাদের জন্য রাজনীতি আরো সহজ হয়ে যাবে।

জামায়াতের রাজনৈতিক মিত্র এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, তরুণদের এই রাজনৈতিক দলটি সম্ভাবনাময় হলেও এমন একটি দলের সঙ্গে তাদের জোট করা দুঃখজনক, যে দল বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় ছাত্র ও তরুণদের দল এনসিপি ভালো করছে।

তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি দুঃখিত যে তারা এমন একটি দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরো পরিষ্কার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাজেট আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি প্রায় খাদের কিনারে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের ফলে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, এবারের বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যতের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পরবর্তী তিন বছরে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার এবং পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল। এতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মানুষ বিভক্ত হয়েছে এবং অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি একটি গল্পের উদ্ধৃতি দিয়ে আলোচনা শুরু করেন। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. আর এ গণি, তরিকুল ইসলাম ও আ স ম হান্নান শাহসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা নেতাদের স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি চীন সফরের একটি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০২ সালে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তারেক রহমান চীন সফর করেছিলেন। তখন চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছিলেন, তিনি একদিন তার পিতা-মাতার আদর্শ ও পতাকা বহন করবেন। আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান সেই দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশের মর্যাদা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো উজ্জ্বল করছেন।

তরুণ প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের ছাত্র ও তরুণ সমাজ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। তারা ভবিষ্যতে আরো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের