বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং, গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি

রোববার,

২৩ আগস্ট ২০২৬,

৮ ভাদ্র ১৪৩৩

রোববার,

২৩ আগস্ট ২০২৬,

৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং, গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ২৩ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ০৯:৩৮, ২৩ আগস্ট ২০২৬

Google News
বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং, গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি

তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও মহেশখালী থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল। নতুন একটি কার্গো টার্মিনালে যুক্ত হওয়ায় গতকাল শনিবার দুপুর থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এতে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট কাটেনি। উল্টো কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং। ফলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুতে স্বস্তি ফেরেনি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৩১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ৪০ লাখ এবং এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ করে সরবরাহ হয়েছে ৬৮ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। সন্ধ্যায়ও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল প্রায় ১৬৯ কোটি ঘনফুট।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে এক্সিলারেট থেকে প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। সন্ধ্যার পর তা আরও বাড়ানো হয়েছে। রাতে সরবরাহ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একবারে পুরো সক্ষমতায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নির্ভর করছে টার্মিনালের কারিগরি পরিস্থিতি ও মজুতের ওপর।

গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ক্ষতির পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কমে যায়। দীর্ঘ সময় টার্মিনাল বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সংকট তীব্র হয়।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার মেরামতের পর পুরোনো মজুত এলএনজি থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। দিনে ৯ থেকে ১০ কোটি ঘনফুটের মতো সরবরাহ চললেও নতুন কার্গো না আসায় মজুত দ্রুত কমে যায়। শেষ পর্যন্ত গত বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো আসার পর শনিবার আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর মাঝে সামিটের টার্মিনাল থেকেই মূলত সীমিত আকারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।
শনিবার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়েছে। সার কারখানায় গেছে ২১ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্পসহ অন্যান্য খাতে গ্যাসের ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে।

কয়লা থেকে বিদ্যুৎ কম
কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৫টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, গ্যাস মোটামুটি পাওয়া গেলেও কয়লা থেকে বিদ্যুৎ কম আসছে। আদানির কাছ থেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। দিনের বেলায় পটুয়াখালীর নরিংকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকেও সরবরাহ কমে যায়। সন্ধ্যায় এসব কেন্দ্র থেকে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নামে। রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। দিনের বড় অংশে আদানির সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল। পায়রা থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র জানায়, শনিবার তাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে কয়েক দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে। ডেসকো এলাকায় চাহিদা ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। সেখানে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের