বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ দেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুইভাগে বিভক্ত। কিন্তু মানুষের কাছে রাজনীতি আর গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিকে বিভক্ত নয় ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ঐক্যে বিশ্বাসী। যে কারণে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে দেশে যে বিভক্তির রাজনীতি শুরু হয়েছিলো সেসময় আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
তিনি বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানে না এবং চেনে না। তাদেরকে বিকৃত ইতিহাস সেখানো হচ্ছে। শেখানো হচ্ছে যে- জিয়া একজন ‘খুনি’। তিনি নাকি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যকাণ্ডের সাথে জড়িত!
শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : ইতিহাসের ধ্রুবতারা" শীর্ষক সংকলন গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

বইটিতে ১৪ জন শিক্ষকের ও জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা তিনটি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। রয়েছে জিয়া পরিবারের ছবি সম্বলিত অ্যালবাম। বইটির সম্পাদক করেছেন অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বইটি পাওয়া যাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ষষ্ঠ তলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারে। গায়ের মূল্য ৪০০ টাকা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ একদিনেই স্বাধীন হয়নি। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। যার ঘোষণা ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আমাদের মহান নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি সেসময় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। অথচ সেসময় যাদের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিলো তারা কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলেন। যে কারণে সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে শহীদ জিয়া একজন সাধারণ সেনা বাহিনীর অফিসার ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাকে খলনায়ক বানাচ্ছে! শিশুদেরকে শেখানো হচ্ছে জিয়া নাকি খুনি! এসবের বিরুদ্ধে আমাদের যারা জাতীয়তাবাদী শক্তির লেখক ও শিল্পীে আছেন তারা সহ সবাইকে জবাব দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল যে বই সঙ্কলন করেছে তা নি:সন্দেহে অত্যাবশ্যক। এ জন্য ঢাবি সাদা দলকে ধন্যবাদ।
তিনি বলেন, আমরা কাউকে খাটো করতে চাইনা। বিশেষ করে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে খাটো করতে চাই না। কিন্তু যার যা প্রাপ্য তাকে তো সেটা দিতে হবে।
তিনি বলেন, আজকে নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা রাজনীতির প্রতি খুবই অনাগ্রহী। অথচ আমরা যারা আজকে এখানে উপস্থিত আছি সবাই ছাত্র রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। অথচ দেশে এতো এতো অনিয়ম অনাচার হচ্ছে যে কেউ কোনো কথা বলছে না। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের চাকরি চলে গেলো। তবুও কোনো প্রতিবাদ হয় না। আমি মনে করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো বেশি সজাগ হতে হবে। সবাইকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশের একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি ছিলেন বিপ্লবী নেতা। আজকে বলা হচ্ছে উন্নয়নের কথা। অথচ সুসংহত গণতন্ত্র ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। যেটা শুরু করেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি সবসময় দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা করতেন। এই দেশের মানুষের জন্য যেসব কল্যাণকর সেসবই তিনি করে গেছেন। আজকে তার সম্পর্কে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আরো বেশি বেশি জানতে হবে। তা না হলে কিন্তু তাকে অবজ্ঞা করা হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে দেশে চলছে মেগা উন্নয়নের নামে মেগা লুটপাট। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হয়ে যাচ্ছে ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা যাচ্ছে কোথায়? এসবই লুট হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের পকেটে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন সরকার দেশের রাজনীতি অর্থনীতি সবকিছুই ধ্বংস করেছে। তারা তো ৭২-৭৫ সালের শাসনামলের বিষয়ে কোনো কথা বলে না। রক্ষী বাহিনী কেনো গঠন করা হয়েছিলো সে নিয়ে কোনো কথা বলে না। অথচ তারা এখন গোয়েবলসীয় কায়দায় মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানের পরিচালনায় বইয়ের মোড়ক উম্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, অধ্যাপক ড. মোঃ হাসানুজ্জামান স্বপন, অধ্যাপক মোঃ আবুল কালাম সরকার, অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, মোঃ শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুল করিম, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, দেবাশীষ পাল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, অধ্যাপক ড. মোঃ আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, ড. নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ এমতাজ হোসেন, ড. মোঃ তোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক মতিউর রহমান, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, বিএনপির সহ শিক্ষা সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম, তাঁতী দলের কাজী মনিরুজ্জামান, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এলবার্ট পি কস্তা, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রকোশলী মাহবুব আলম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি খাদের গণি চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আবু তৈয়ব সহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের ব্যাক্তিবর্গ।

