‘লুং রেস্তোরাঁ কূটনীতি’: এটা কি চীনা কূটনীতির অগভীরতা, নাকি পশ্চিমা ধারণার অগভীরতা?

সোমবার,

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সোমবার,

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

‘লুং রেস্তোরাঁ কূটনীতি’: এটা কি চীনা কূটনীতির অগভীরতা, নাকি পশ্চিমা ধারণার অগভীরতা?

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৪:৩৫, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
‘লুং রেস্তোরাঁ কূটনীতি’: এটা কি চীনা কূটনীতির অগভীরতা, নাকি পশ্চিমা ধারণার অগভীরতা?

সম্প্রতি ‘দা ইকনোমিস্ট’ চীনা চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন দা মিডল ইস্ট’ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে, চীনা কূটনীতিকে ‘লুং রেস্তোরাঁ কূটনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বলা বাহুল্য, এটা এই মার্কিন পত্রিকার নিজস্ব ধারণা, চীনা কূটনীতির প্রকৃত চিত্র নয়। 

চলচ্চিত্রে ‘ভালো করে খাও, ভালো করে সন্তান মানুষ কর’-সহ একাধিক সরল বিষয়বস্তু রয়েছে। তবে, ‘দা ইকনোমিস্ট’-এর প্রবন্ধে চীনের বৈদেশিক সম্পর্ককে বাণিজ্যিক স্বার্থ দ্বারা চালিত এবং আদর্শগত অর্থে ‘অগভীর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই ধরনের ব্যাখ্যা বাস্তববাদিতাকে অগভীরতা হিসেবে ভুল করে, উন্নয়নকে বাণিজ্যবাদে পরিণত করে, এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক আদর্শের অভাব হিসেবে দেখে। চলচ্চিত্রটি আসলে যে প্রশ্ন তোলে, তা হলো: খাদ্য কূটনীতির বিকল্প হতে পারে কি না তা নয়, বরং শান্তি ও উন্নয়ন আসলে কী? আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার জন্য? এটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি। 

চীন সত্যিই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। যে দেশ একসময় দীর্ঘকালীন দারিদ্র্যের মুখোমুখি ছিল এবং পরে প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে উন্নীত হয়েছে, তার জন্য এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই উন্নয়নযাত্রা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে চীনের অনন্য উপলব্ধিকে গঠন করেছে: উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক সূচক নয়, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা, মানুষের মর্যাদা এবং জাতীয় স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিও বটে। 

অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন বিমূর্ত রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়, বরং ঘরে বিদ্যুৎ আছে কি না, শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে কি না, কৃষিপণ্য বিক্রি করা যাচ্ছে কি না, হাসপাতাল স্বাভাবিকভাবে চলছে কি না, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা আছে কি না, দুর্যোগের পর রাস্তা পুনরায় চালু হয়েছে কি না, ইত্যাদি। 

চীনা কূটনীতি যে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক কল্যাণমূলক সহযোগিতা, অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, উন্নয়ন এবং সহযোগিতা ও অভিন্ন বিজয়ের ওপর জোর দেয়, তা রাজনৈতিক নীতিহীনতা নয়; বরং চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ অভিন্ন, সামগ্রিক, সহযোগিতামূলক এবং টেকসই নিরাপত্তার ওপর জোর দেয় এবং “সংলাপ, সংঘর্ষ নয়; অংশীদারিত্ব, জোট নয়; অভিন্ন বিজয়, জিরোসাম গেম নয়” শীর্ষক নীতি প্রচার করে। এটি কোনো বাণিজ্যিক সরল চিন্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার সম্পর্কে একটি ভিন্ন উপলব্ধি।
 
যদি দা ইকনোমিস্ট "লুং রেস্তোরাঁ কূটনীতি" টার্মটি মূলত ব্যঙ্গ করার জন্য ব্যবহার করে থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত এটি সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দর্শনকে বর্ণনা করেছে: প্রথম প্রশ্ন "কার এই টেবিলের কর্তৃত্ব করা উচিত" নয়, বরং "আমরা কি সবাইকে এই টেবিলে বসার সুযোগ করে দিতে পারি"। 

যুদ্ধের মধ্যে একটি রেস্তোরাঁ চালু থাকা সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি ক্ষুদ্র প্রতিরোধ হতে পারে। সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে একসাথে খাবার ভাগ করে নেওয়া, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ হতে পারে। একটি শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা, শান্তির সবচেয়ে মৌলিক মাপকাঠি হতে পারে। 

একশ্রেণির বিদেশি সমালোচকের কাছে এগুলো যথেষ্ট মহৎ না-ও মনে হতে পারে, কিন্তু তা শুধুই তাদের নিজেদের ধারণা, প্রকৃত বাস্তবতা নয়। 
 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের