অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জয় উচ্ছ্বসিত স্বাগতিক সমর্থকদের আশাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী পর্ব নিশ্চিত করেছে।
গত সপ্তাহে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলে বড় জয়ের পর থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের মনোরম আবহাওয়ায় সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড এবং আশপাশের রাস্তা ও বারগুলো লাল-সাদা পোশাক পরা সমর্থকদের ভিড়ে জমজমাট হযয়ে ওঠে।
কিক-অফের আগেই “ইউএসএ, ইউএসএ” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে স্টেডিয়ামটি। এই স্টেডিয়াম সুপার বোল চ্যাম্পিয়ন সিয়াটল সিহকসের ঘরের মাঠ হিসেবে পরিচিত, পাশাপাশি স্থানীয় ফুটবল দল সাউন্ডার্সেরও আবাসস্থল।
পেশীর চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের তারকা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ খেলতে পারেননি। ফলে কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো ৪-৪-২ ফরমেশনে ফিরে যান এবং দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে রিকার্দো পেপিকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করেন।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় যুক্তরাষ্ট্র। ১১তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার আত্মঘাতী গোলে তারা লিড নেয়। স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বাড়তি অবস্থানে খেলতে থাকা তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন বাম দিক দিয়ে দৌড়ে গিয়ে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন। পেপির চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস বল নিজের জালেই জড়ান।
তুরস্কের বিপক্ষে জয় এনে দেওয়া দুই গোলদাতাকে বিস্ময়করভাবে বাইরে রাখায় অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। যুক্তরাষ্ট্র বলের দখল ধরে রাখে এবং আক্রমণে ছিল প্রাণবন্ত ও গতিময়। ডান প্রান্তে ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও সার্জিনো ডেস্টের সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো।
৪৪তম মিনিটে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এটি ছিল ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অন-টার্গেট শট। ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া একটি ফ্রি-কিকে অ্যান্টনি রবিনসন বক্সের ভিড় এড়িয়ে বল বাড়িয়ে দেন ডি-বক্সের সামনে একেবারে ফাঁকা থাকা সার্জিনো ডেস্টের কাছে। ডেস্টের শট প্রতিহত হয়ে ওপরে উঠে যায়। সুপার বোলজয়ী এনএফএল ওয়াইড রিসিভার এ্যান্টোনিও ফ্রিম্যানের ছেলে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান সবার আগে বলের কাছে পৌঁছে হেড করে প্যাট্রিক বিচকে পরাস্ত করেন। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয়বারের মতো উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম।
বিরতির সময় অস্ট্রেলিয়া তিনটি পরিবর্তন আনে। তুরস্কের বিপক্ষে গোল করা কনর মেটক্যালফ ও নেস্টরি ইরানকুন্ডাকে মাঠে নামানো হয়। সকারুজরা এই পরিবর্তনে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে খেলা শুরু করে।
তবে শুরুতেই বিপদে পড়তে বসেছিল তারা। বালোগুন থ্রু বল ধরে একক সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণে সামান্য ভুল হওয়ায় তার শট আটকে দেওয়া হয়।
৬২তম মিনিটে আসে অস্ট্রেলিয়ার সেরা সুযোগ। টুর্নামেন্টের ঠিক আগে ইতালির বদলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো ইরানকুন্ডার কাট-ব্যাক পাস থেকে পাওয়া সুযোগ নষ্ট করেন, তার শট অনেক ওপর দিযয়ে চলে যায়।
শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছুটা রক্ষনাত্মক কৌশলের সুযোগ অস্ট্রেলিয়া বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরী করলে কাঙ্খিত গোল পায়নি। শেষ মুহূর্তে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের গোল ধওে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
শেষ ৩২ পর্বে অবস্থান ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হওয়ায় আগামী বৃহস্পতিবার তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিন্তে খেলতে পারবে। ঘরের মাঠের সুবিধা এবং দুর্দান্ত ফর্মের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকেরা এখন ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

