বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে ব্রাজিলের সামনে এখন একসঙ্গে তিনটি লক্ষ্য। প্রথমত, স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান ধরে রাখা। আর তৃতীয়ত, নেইমারকে পুরোপুরি সুস্থ রেখে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের জন্য প্রস্তুত করা।
মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। কাগজে-কলমে ম্যাচটি যতই স্বাভাবিক মনে হোক, বাস্তবে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে না পারলে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের পথ অনেক কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তবে ম্যাচের আগের আলোচনার বড় অংশজুড়ে আছেন একজনই—নেইমার জুনিয়র। চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলের এই তারকা। কিন্তু তাকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। পরিকল্পনা পরিষ্কার—নকআউট পর্বের জন্য নেইমারকে শতভাগ প্রস্তুত রাখা। গ্লোবো এস্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুর একাদশে নেইমারের থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তবে সমর্থকদের জন্য আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি সন্তোষজনক হওয়ায় ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তা হয়, তাহলে বিশ্বকাপের মঞ্চে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের আরেকটি অধ্যায়ের সাক্ষী হতে পারে মায়ামি।
এদিকে একাদশেও আসতে পারে ছোট একটি পরিবর্তন। রাফিনিয়ার জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। অনুশীলনে মূল দলের সঙ্গে তার উপস্থিতি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। কোচ আনচেলত্তিও আভাস দিয়েছেন, হাইতির বিপক্ষে যে দল খেলেছিল, তার তুলনায় সম্ভবত এটিই হবে একমাত্র পরিবর্তন।
তবে আনচেলত্তির জন্য আরেকটি চিন্তার জায়গা রয়েছে। মিডফিল্ডার কাসেমিরো এবং ডগলাস সান্তোস দুজনই হলুদ কার্ডের ঝুঁকিতে আছেন। আজ আরেকটি কার্ড দেখলে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে নিষিদ্ধ হতে হবে তাদের। তবু অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বিবেচনায় দুজনকেই মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইতালিয়ান কোচ।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অনেক সময় শেষ ম্যাচগুলো আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। কিন্তু ব্রাজিলের জন্য স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি মোটেও তেমন নয়। এখানে জড়িয়ে আছে গ্রুপের শীর্ষস্থান, নকআউটের পথ সহজ করার হিসাব, নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ।
মায়ামির রাত তাই ব্রাজিলের জন্য শুধু একটি ম্যাচ নয়; এটি হতে পারে তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকনির্দেশনা।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ-
আলিসন; দানিলো, মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ডগলাস সান্তোস; কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকেতা; রায়ান, ম্যাথিউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

