রোববার,

১৬ মে ২০২১

মারা গেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার-ধারাভাষ্যকার রবিন জ্যাকম্যান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৪০, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

আপডেট: ০৪:৫১, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

মারা গেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার-ধারাভাষ্যকার রবিন জ্যাকম্যান

চলে গেলেন সাবেক পেসার-ধারাভাষ্যকার রবিন জ্যাকম্যান

ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রবিন জ্যাকম্যান মারা গেছেন। বড়দিনের উৎসবের মাঝেই শুক্রবার ৭৫ বছর বয়সে কেপ টাউনে মারা যান সাবেক এই ক্রিকেটার।

ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা জ্যাকম্যান জন্ম নিয়েছিলেন ভারতের শিমলায়। ইংলিশদের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি তার। মাঠের পারফরমেন্স আশানুরূপ না হলেও ধারাভাষ্যে তিনি ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়।  ১৯৮১ সালে ৩৫ বছর বয়সে টেস্ট শুরু করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলেছেন মাত্র ৪টি। তাতে রানসংখ্যা ৪২। এছাড়া ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ১৫টি।

পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার জন্যই ১৭ বছর বয়সে তিনি বিদায় জানান স্কুলকে। ১৯ বছর বয়সে ট্রায়াল দেন স্বপ্নের ক্লাব সারেতে। নির্বাচিত হয়েও যান। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের স্বাদ পেতে অপেক্ষা করতে হয় আরও বছর দুয়েক। ক্রমেই তিনি হয়ে ওঠেন সারের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মৌসুমের পর মৌসুম ধারাবাহিক পারফর্ম করেও জ্যাকম্যানের জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছিল না। বব উইলিস, জেফ আর্নল্ড, ক্রিস ওল্ডের মতো পেসার তখন থিতু ইংল্যান্ড দলে। একসময় মনে হচ্ছিল, এই টেস্ট ক্যাপ তার অধরাই থেকে যাবে। এরপরই আসে সুযোগ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন জ্যাকম্যান। প্রথম শ্রেণির ৩৯৯ ম্যাচে তিনি রান করেছেন ৫ হাজার ৬৮১। আর উইকেট নিয়েছেন ১৪০২টি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্স করে চলেছিলেন জ্যাকম্যান। তবে জাতীয় দলে বেশ বিলম্বে ডাক পান তিনি। বব উইলিসের ইনজুরিতে ৩৫ বছর বয়সে দলে ডাক পান এই পেসার। অবশ্য অভিষেকের আগে বাধায় পড়তে হয়েছিল তাকে। 

জ্যাকম্যানের স্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকার হওয়ায় তাকে ভিসা দিতে আপত্তি জানায় গায়ানা সরকার। কারণ সেই সময় বর্ণবাদ নীতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি বার্বোডোজে সরিয়ে আনা হয়েছিল। অপেক্ষার প্রহর শেষে ১৯৮১ সালের মার্চে তার অভিষেক হয়। 

ক্রিকেট থেকে অবসরের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যান তিনি। সেখানেই ধারাভাষ্যকার হিসেবে নাম লেখান। ২০১২ সালে জনপ্রিয় এই ধারাভাষ্যকারের ক্যানসার ধরে পড়ে।

তার মৃত্যুতে আইসিসি’র পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স।