এক টাকায় ১৮ রকমের খাদ্যপণ্য পেয়ে ভারি খুশি গাইবান্ধা শহরের সরকারপাড়ার ফাহিমা বেগম। নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী বালিখা বিদ্যালয় মাঠে। কিছু অনুষ্ঠানিকতার পর দীর্ঘ লাইনের সামনের দিকে থাকার কারণে দ্রুত পেলেন সবকিছু। স্কুলের বারান্দায় বসে দাদি-নাতনি বসে ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিচ্ছিলেন।
প্রশ্নের উত্তরে বললেন, ইদের দিনখান খুব্যে ভাল কাটব্যি। ছোলপোল গুল্যা একটা কাঁচা ট্যাকা নিয়্যা যা দিসে, ওসল্যাই খাম। আল্লাহ ওমাক নেক হায়াত দেক’!
তিনগাছের তলের সাবিনা বেওয়া (৫৫) ও রূপভান (৪০), কুটিপাড়ার দেলোয়ার মিয়া (৬৫) সবাই ফাহিমার মতোই উচ্ছ্বসিত।
ইদের আগে দুস্থ-অসহায় ২৫০ নারী-পুরুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এক টাকা প্রতীকী মূল্যে গত ছয় বছর ধরে এই অভিনব এক টাকার বাজার বসে।
‘আমাদের গাইবান্ধা’ নামের একটি সংগঠনের তরুণ তরুণীরা বাজার নয়, যেন আনন্দের হাট বসান। সম্পূর্ণ নিজেদের টাকায় এই বড় আয়োজন করে কিছু পরিবারকে দুঃসময়ে ঈদের খুশি বিলান তারা। বুধবার বিকেল থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত এবার সেই আয়োজন ছিল নজরকাড়া।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মুসাব্বির রহমান খান বললেন, ‘গাইবান্ধার মাটিতে তাদের বেড়ে ওঠা।
ছাত্রাবস্থায় ২০১৪ সালে তারা এই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে লেখাপড়ার জন্য চলে যান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়। পরে নানা পেশাতেও জড়িয়েছেন। তবে ঈদের আগে তাদের বাড়ি ফেরার আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ এই এক টাকার বাজার। নিঃস্ব অসহায় মানুষকে খুঁজে এনে এক টাকা নিয়ে ঈদের জন্য খাদ্যপণ্য তুলে দেওয়ার ব্যাপারটি সারা বছর তাদের মাথায় থাকে।
’ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সেঁজুতি হাসান জানালেন, ‘ভাইয়াদের সঙ্গে এই কাজটিতে মেয়েরাও অংশ নেয়। এই বাজার তাদের সারা বছরের আত্মতৃপ্তির মাধ্যম।’
এনজিও নেটওয়ার্কের সভাপতি মুরশিদুর রহমান খান বলেন, ‘এদের শুধু বাজার নয়, সেই করোনাকালীন সময় থেকে সেবামূলক কাজ, মাদকবিরোধী কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষা সহায়তা দানসহ অনেক কাজ রয়েছে। এদের পাশে থাকতে ভালো লাগে।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সম্পাদক রিকতু প্রসাদ বলেন, ‘ভাবা যায় না, দুই কেজি ভালো চাল, মুরগি, সোয়াবিন তেল, ডাল, চিনি, সেমাই, গুঁড়ো দুধ, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, মিষ্টি কুড়া, মরিচ, লেবুসহ ১৮টি জিনিস পেয়ে মানুষের কি যে উচ্ছ্বাস! সুুশৃঙ্খল আয়োজন ও বিনীত আচরণ ওদের প্রধান সম্পদ। তারুণ্যের এই দৃশ্যটিই সব সময় দেখতে চাই।
সংগঠনের সভাপতি সায়হাম রহমান বলেন, ‘আমরা কখনো দুস্থ-অসহায় মানুষের ব্যক্তিত্বে আঘাত দিতে চাই না। তাই প্রতীকী মূল্য রেখেছি। যাতে তারা এই খাদ্যপণ্য গ্রহণকে নিজেদের অধিকার বলে মনে করেন। ’
বাজার শুরু হওয়ার আগে এক আলোচনাসভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাব সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন, তুলশীঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ, এনজিও নেটওয়ার্কের সভাপতি মুরশিদুর রহমান খান, সাংবাদিক শাহাবুল শাহিন তোতাসহ অন্যরা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

