ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের শওকত আলীর মধ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে মাত্র ২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার সকালে শওকত আলী বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে আব্দুর রউফ তা ভেঙে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আব্দুর রউফ থানায় অভিযোগ করেন এবং বুধবার রাত থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুর রউফের সমর্থকরা স্থানীয় আবুল কাশেম (বিডিআর) ও জহিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে শওকত আলীর ভাই লিয়াকত আলীর দোকানে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এর জেরে শওকত আলী ও লিয়াকত আলীর সমর্থকরা খারুয়া বাজারে জড়ো হলে উভয় পক্ষ বাঁশের লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে আব্দুর রউফের মুদি দোকানেও হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
আব্দুর রউফের ছেলে মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তাদের নিজস্ব জায়গায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল। বাধা দিলে প্রতিপক্ষ তাদের দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে শওকত আলী দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। সেখানে বৈধভাবে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল। কিন্তু আব্দুর রউফ লোকজন নিয়ে ঘরটি ভেঙে দেন। পরে আবুল কাশেম (বিডিআর) ও জহিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে তার ভাইয়ের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা মোতায়েন থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

