আদ্-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার,

০৪ জুন ২০২৬,

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার,

০৪ জুন ২০২৬,

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Radio Today News

আদ্-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ৪ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৯:১৭, ৪ জুন ২০২৬

Google News
আদ্-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকার মগবাজারে বেসরকারি আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই সময়ে চিকিৎসক না থাকা, নার্স, স্টাফ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার বেলা দিনটায় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন নিয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মি. হোসেন বলেন, “তদন্ত কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ওই সময়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকা এবং নার্স, স্টাফ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলাজনিত বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।”

এ বিষয়ে ব্যবস্থা কী নেওয়া হবে- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আমরা বসবো। বসে বিদ্যমান আইনে যেই শাস্তি দেওয়া যায় আমরা সেটাই করবো ইনশাল্লাহ।”

একইসঙ্গে, লাইসেন্স বাতিল করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আইন দেখেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ভবনটি হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়।

“সংশ্লিষ্ট পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়, কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রায় ঘাটতি হয়েছে ও পক্ষান্তরে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল” বলেন মি. হোসেন।

দায়িত্বরত সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতিশীল অবস্থায় হাসপাতালের সক্রিয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না বলেও জানান তিনি।

অভিভাবকদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোন চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত না করে কালক্ষেপন করতে থাকে এবং নবজাতকদের মৃত্যু রোধে প্রয়োজনীয় উপযুক্ত যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তদন্তে পাওয়া গেছে, ওই কক্ষটি প্রায় ৯০০ বর্গফুট যেখানে ১১ জন রোগী, নবজাতক এবং রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জন লোক ছিল, যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক অনেক বেশি।

“বিদ্যমান প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্ত পালনে সক্ষম ছিল না। যেমন: উক্ত পোস্ট অপারেটিভ রুমে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার জন্য কোন চিকিৎসক ছিল না” বলেন মি. হোসেন।

সেবিকাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি, আলো-বাতাস চলাচলে ভেন্টিলেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তদন্তে পাওয়া গেছে। পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে জনগণের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি এবং হাসপাতালটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মি. হোসেন বলেন, মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ, যদিও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়না তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বের করা সম্ভব নয় তথাপি পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন ও বিভিন্ন ব্যক্তির জবানবন্দি থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়।

তিনি বলেন, “ছোট বদ্ধ কক্ষে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোন ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া যা নবজাতক শিশুর দীর্ঘসময় টিকে থাকার ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।”

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের