মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেডারেল রিজার্ভ) ভবিষ্যতে সুদের হার কোন পথে নেবে—এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২৯ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার্সের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২৯ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে প্রতি আউন্স ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে স্বর্ণের দাম। মেরেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে—এমন আশঙ্কা বাজারে রয়েছে, যা স্বর্ণের দামকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রেখেছে।
গত সপ্তাহে ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া তিন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেছেন, সুদের হার বাড়াতে দেরি হলে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামসও জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ কমে না এলে প্রয়োজন হলে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং ওমান উপকূলে একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর গত মাসে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে, ফলে ফেড দীর্ঘ সময় সুদের হার উঁচু পর্যায়ে রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
সোমবার ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং বৈঠকেরও কোনো পরিকল্পনা নেই। এর মাধ্যমে দেশটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিপরীত অবস্থান তুলে ধরেছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের চলতি সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। এর মধ্যে রয়েছে এডিপি (ADP) কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং নন-ফার্ম পে-রোলস (Nonfarm Payrolls) প্রতিবেদন। এসব তথ্য ফেডের পরবর্তী সুদনীতি সম্পর্কে বাজারকে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, স্বর্ণের মজুত বাড়াতে এবং সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে তারা স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে স্বর্ণ কিনবে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৮ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬১৬ দশমিক ৪২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৫১ দশমিক ১৬ ডলারে নেমে এসেছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে সরকারি ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

