যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ইরান হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪৯ ডলারে লেনদেন হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত রেখে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার কথা জানানোর পর বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের ঝুঁকি আপাতত কমেছে। এর প্রভাবেই তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
তবে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ইরান জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং বৈঠকেরও কোনো পরিকল্পনা নেই। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে বাজারে সতর্কতা এখনো বজায় রয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি হামলার ঝুঁকির কারণে কয়েকটি সৌদি সুপারট্যাংকার আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল করছে। হরমুজ প্রণালি ও বাব এল-মান্দেবসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে। কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে দাম আরও কমতে পারে, আর উত্তেজনা আবার বাড়লে বাজারে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

