অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় গুপ্তভাবে কাজ করছে জামায়াতের একটি গ্রুপ। তিনি বলেন, সে সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ দেখে সরে দাঁড়িয়েছিল সেনাবাহিনী। ফলে জুলাই আন্দোলনে পতন ঘটে শেখ হাসিনার।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য ড. জয়দেব ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু প্রমুখ।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে রাখা শেখ হাসিনার সময় দেশে ব্যাপক উন্নয়নের জোয়ার বইছিল। সে সময় বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যান পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেছেন। সে সময় পিটার হাসও বিভিন্ন চুক্তির বিষয় নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, চব্বিশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল গ্রাফিতির মাধ্যমে। সেগুলোর মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। বৈষম্যহীন মানেই বামপন্থি। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী যারা ক্ষমতাসীন হয়েছে তারা সবাই বৈষম্যবাদী ডানপন্থি শক্তি। এটাই সমাজের অন্যতম দ্বন্দ্ব। সমাজের মধ্যে বৈষম্যহীন আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে হলে বামপন্থি রাজনীতিকে নানা দিক থেকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে হবে।
জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল মূলত কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারিতা ও সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সংবিধানকে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার ও নতজানু পররাষ্ট্র নীতি পাল্টানোর আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে।
বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে পুরোনো ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে এই ব্যবস্থাকে চেনা জরুরি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

