রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) রাজশাহীর মতিহার থানা আমলি আদালতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনের বাবা আসাদ উজ জামান বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান এবং নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ও ভেতরে একদল যুবক ছুরি, রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে শিক্ষার্থী মাহিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, সালাউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা ও কপালে সজোড়ে আঘাত করেন। এ ছাড়া সালমান সাব্বির রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তা গিয়ে মাহিনের বাম চোখে লাগে, এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। অন্য আসামিরাও তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। এমনকি চার আসামি তাকে মাটিতে ফেলে গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত মাহিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা বাধা দেয়। তারা মাহিনকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে জোরপূর্বক টেনে নামিয়ে পুনরায় মারধর করে। পরে সহপাঠীদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওই দিন একই স্থানে আরও দুই শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীর বাবার দেওয়া অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে আদালত পিবিআইকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

