আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দিনটি আবার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক মান্নার মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই দাপুটে নায়ক। সময়ের ব্যবধানে বহু বছর পেরিয়ে গেলেও দর্শকের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান এখনো অটুট। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি আজও নস্টালজিয়া আর আবেগে ভাসায় ভক্তদের।
ভাইরাল সেই করমর্দনের ছবির রহস্য
গত মাস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি ছবি—যেখানে দেখা যায়, হাসিমুখে কুশল বিনিময় করছেন তারেক রহমান ও মান্না। গেল ডিসেম্বরে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পরদিনই ছবিটি নতুন করে আলোচনায় আসে। বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই ছবিটি শেয়ার করেন।
ছবিটি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন প্রয়াত নায়কের স্ত্রী **শেলী মান্না**। তিনি জানান, ছবিটি সম্ভবত ২০০২ সালের পরের কোনো সময়ের। তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এটি পয়লা বৈশাখের একটি অনুষ্ঠান থেকে তোলা। সেদিন রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন মান্না। সেখানেই তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়।
তারেক রহমানের সঙ্গে যে কথা হয়েছিল সেদিন
শেলী মান্নার ভাষ্য, মান্না সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না; অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। তবে সেদিন তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। মূল আলোচনা ছিল সিনেমা, দেশ এবং তারকাদের সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে।
তিনি বলেন, যত দূর মনে পড়ে, মান্না রাজনীতি করতেন না। হঠাৎই দেখা হয়। অভিনয় নিয়ে তারেক রহমান প্রশংসা করেছিলেন। দেশ ও সংস্কৃতি নিয়ে কথা হয়েছিল। এমনকি তারকাদের রাজনীতিতে এসে দেশের সেবা করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
শেলী আরও জানান, তাঁদের পরিবারে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তিনি নিজেও সরকারি চাকরিতে ছিলেন।
১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করেন মান্না। তাঁর প্রকৃত নাম আসলাম তালুকদার। ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু। প্রথমদিকে আজহারুল ইসলাম খানের ‘তওবা’ ছবিতে অভিনয় করেন। পরে পরিচালক কাজী হায়াৎ–এর সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করে নিজেকে শীর্ষ নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। একসময় আসলাম তালুকদার নামটি হারিয়ে যায়। পরিচিত হয়ে উঠে নায়ক মান্না।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

