প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারি দিকে সুবিশাল দেশটা সেজে ওঠে বিয়ের সাজে। চারদিকে খালি লাল আর লাল। আবার একেক বছর সেই লালের সঙ্গে জড়িয়ে যায় একেকটা প্রাণীরর নাম। একবার মুরগি, তো একবার ইঁদুর ছানা। এবার সেই প্রাণীটা হলো টগবগিয়ে চলা ঘোড়া। বলছিলাম চীনের কথা। আর এবারের চীনের চান্দ্র নববর্ষটা হলো ঘোড়ার বছর।
গত কয়েকদিন ধরেই উৎসবের লালে সেজেছে বেইজিংয়ের অলিগলি। বাদ পড়েনি শাংহাইয়ের আকাশচুম্বী অট্টালিকাও। আজ মানে ১৭ ফেব্রুয়ারি চীনের সবচেয়ে বড় উৎসব—চীনা নববর্ষ। তবে উৎসবটি 'বসন্ত উৎসব' নামেই বেশি পরিচিত।
এবারের উৎসবের আমেজটা অন্যরকম। চীনা রাশিচক্রের আবর্তনে এবারের বছরের প্রতীকী প্রাণীটা হলো ঘোড়া। আর চীনা সংস্কৃতিতে ঘোড়া মানেই শক্তি, গতি আর অদম্য আত্মবিশ্বাস।
১২টি প্রাণীর নামে বছর গণনা করা হয় চীনা পঞ্জিকায়। লোকগাথা অনুযায়ী, স্বর্গের দেবতার ডাকে সাড়া দিয়ে যে প্রাণীরা সবার আগে পৌঁছেছিল, তাদের ক্রমানুসারেই নির্ধারিত হয়েছে বছরের নাম। সাহসিকতা ও পরিশ্রমী স্বভাবের কারণে বিশেষ মর্যাদা পায় ঘোড়া।
চীনা বিশ্বাস মতে, ঘোড়ার বছর মানেই স্থবিরতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শুভক্ষণ।
তবে এ উৎসব কিন্তু একদিনের নয়। চলে টানা ১৫ দিন!
উৎসবের আগেই চলে ঘর পরিষ্কারের ধুম। আমাদের বৈশাখের মতোই এর উদ্দেশ্য হলো মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা। অশুভকে বিদায় দিয়ে আমন্ত্রণ জানাতে ঘরে ঘরে টানানো হয় লাল লণ্ঠন ও কাগজের কারুকাজ। সৌভাগ্যকে ডেকে আনতে সবাই দরজার সামনে লাগায় চীনা অক্ষর ‘ফু’ লেখা কাগজ। এই ফু মানেই সৌভাগ্য। এমনিতেও চীনা ঐতিহ্যে লাল হলো সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই এ উৎসব যথার্থই লালে লাল!
নববর্ষের আগের রাত খুব জমে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফেরেন। রাতের বিশেষ ভোজের পর বড়রা ছোটদের হাতে তুলে দেন ‘হোং পাও’। চীন শব্দ হোং মানে লাল আর পাও মানে খাম। হোং পাও মানেই কড়কড়ে নতুন নোট। এটা অনেকটা আমাদের ঈদের সালামির মতো।
এদিকে, ড্রাগন ও সিংহ নাচ ছাড়া এ উৎসব একেবারেই জমে না। ড্রামের তালে তালে শত শত মানুষের এই নৃত্যশৈলী দেখে থমকে দাঁড়াতে হয়। সেই সঙ্গে আতশবাজির ঝলকানি তো আছেই। অশুভ শক্তিকে তাড়াতে আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এই আলোকসজ্জা চীনা ঐতিহ্যেরই অংশ।
চীনা নববর্ষ কিন্তু এখন আর শুধু চীনেই হয় না। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাতেও ঘটা করে পালন হয় এ উৎসব।
বাংলাদেশেও ব্যতিক্রম নয়। ঢাকায় থাকা চীনা নাগরিক এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবছরই নাচ, গান ও চীনা খাবারের জমকালো আয়োজন করা হয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক চমৎকার সেতুবন্ধন তৈরি করে দিনটি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

