রোববার,

১৬ মে ২০২১

‘ইংরেজি নববর্ষ’ লেখা মারাত্মক ভুল

প্রকাশিত: ২০:১৫, ১ জানুয়ারি ২০২১

‘ইংরেজি নববর্ষ’ লেখা মারাত্মক ভুল

অনেকেই ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারিখ লেখার শেষে কেউ কেউ ‘ইং’ লিখেন। অনেক সরকারি চিঠিপত্রেও তারিখের শেষে ‘ইং’ লেখা দেখতে পাই। তাতে ধারণা করা যায় যে, পঞ্জিকায় আজকের দিনটি শুরু হলো তার প্রবর্তক কোনো ইংরেজ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা মোটেই সত্য নয়। এই পঞ্জিকা প্রবর্তনে কোনো ইংরেজের ভূমিকা তো নেই, বরং তাদের বিরোধিতা আছে। এই পঞ্জিকা প্রবর্তনের ১৭০ বছর পর ইংরেজরা  গ্রহণ করেছে।

আদিতে এই পঞ্জিকা প্রবর্তন করেন জুলিয়াস সিজার খ্রীষ্টপূর্ব ৪৬ অব্দে। এ পঞ্জিকাতে এক মহাবিষুব থেকে পরবর্তী মহাবিষুব পর্যন্ত ধরা হয়েছিল ৩৬৫'২৫ দিন। ৩৬৫ দিনে বছর গণনা করে চার বছর পর অধিবর্ষে ফেব্রুয়ারি মাসে একদিন অতিরিক্ত যোগ করা হতো। কিন্তু প্রকৃত সময় ছিল ৩৬৫'২৫ দিনের চেয়ে ১১ মিনিট কম। ফলে ৪০০ বছর পর প্রায় তিন দিনের ব্যবধান সৃষ্টি হয় এবং ১৫৮২ সালে ১০ দিনের ব্যবধান ঘটে মহাবিষুব ২১ মার্চের পরিবর্তে ১১ মার্চ পড়ে। মহাবিষুব হলো-সূর্যের উত্তরায়নকালে নিরক্ষ বা বিষুব রেখার ওপর অবস্থান। এ সময় দিন ও রাত সমান দীর্ঘ হয়।

খ্রিষ্টীয় উৎসব ইস্টারের দিন নির্ণয়ের সঙ্গে মহাবিষুব জড়িত। এজন্য ক্যাথলিক গীর্জা জুলিয়ান পঞ্জিকা সংশোধনের প্রয়োজন বোধ করে।

একজন ইটালীয় বিজ্ঞানী অ্যালয়সাস লিলিয়াস (Aloysus Lilius) এর প্রস্তাবে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরীর আদেশে জুলিয়ান পঞ্জিকার সংশোধন করে বর্তমান পঞ্জিকার প্রবর্তন করা হয়। তাই এ পঞ্জিকাটি গ্রেগরিয়ান বা খ্রিষ্টীয় পঞ্জিকা নামে অভিহিত।

১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে জুলিয়ান পঞ্জিকা থেকে ১০ দিন বাদ দিয়ে ইটালী, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, পর্তুগাল এবং স্পেন গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জী গ্রহণ করে। প্রটেস্টান্ট সম্প্রদায় গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জীকে ক্যাথলিকদের ষড়যন্ত্র আখ্যায়িত করে তা গ্রহণ করতে চায়নি।

উপায়ান্তর না দেখে ১৭০ বছর পর ১৭৫২ সালে ব্রিটিশরা তাদের প্রচলিত পঞ্জিকা থেকে ১১ দিন বাদ দিয়ে যখন গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জী গ্রহণ করে, তখন ব্রিটেনে রীতিমত দাঙ্গা বেধে যায়।

তাই তারিখ লেখার পর ‘ইং’ লিখা, কিংবা ‘ইংরেজি নববর্ষ’ লেখা একটি মারাত্মক ভুল।

অধ্যাপক আব্দুস সালাম : ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সাবেক রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়