ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩৫, গ্রেপ্তার ১২ শতাধিক

বুধবার,

০৭ জানুয়ারি ২০২৬,

২৪ পৌষ ১৪৩২

বুধবার,

০৭ জানুয়ারি ২০২৬,

২৪ পৌষ ১৪৩২

Radio Today News

ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩৫, গ্রেপ্তার ১২ শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০১, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৪:০৩, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩৫, গ্রেপ্তার ১২ শতাধিক

ইরানে টানা ৯ দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতা ও প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মানবাধিকার কর্মীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। 

গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, ৪ জন শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্য রয়েছেন। ইরানের ভেতর থাকা বিস্তৃত কর্মী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশটির অতীতের অস্থিরতার সময়েও নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত ৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বিক্ষোভে আহত হয়েছেন অন্তত ৬৪ জন, যাদের অধিকাংশের শরীরে পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাত রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু এলাকায় সরাসরি গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ পর্যন্ত ২১ জনকে স্বাধীনভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ইরানের ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে বিক্ষোভ চলছে এবং বোজনুর্দ, কাজভিন, ইস্পাহান ও তেহরানসহ বিভিন্ন শহর থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা ‘মোল্লাদের কাফন না হওয়া পর্যন্ত এই দেশ কস্মিনকালেও স্বদেশ হয়ে উঠবে না’ এমন উগ্র স্লোগান দেওয়ালে লিখে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। স্বাধীন তথ্যসূত্রে সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের