দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আটলান্টিক মহাসাগরে ধাওয়া করার পর ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট একটি রুশ-পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটিকে রক্ষা করার জন্য রাশিয়া নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে– এমন খবরের মধ্যে এই পদক্ষেপ নিলো যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ড বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি বিবৃতি পোস্ট করে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র সুরক্ষা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য ট্যাংকারটি আটক করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, নিষিদ্ধ এবং অবৈধ ভেনেজুয়েলার তেলের অবরোধ সম্পূর্ণ কার্যকর রয়েছে - বিশ্বের যে কোনো স্থানে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বুধবারের অভিযানটি কোস্ট গার্ড এবং মার্কিন সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন বিশেষ বাহিনী প্রথমে ট্যাংকারটিকে সুরক্ষিত করতে সাহায্য করেছিল, যা এখন কোস্ট গার্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন কোস্ট গার্ড যখন ‘মেরিনেরা’ নামের জাহাজটিতে ওঠেন তখন আশপাশে কোনো রাশিয়ান জাহাজ ছিল না। এর ফলে মার্কিন ও রাশিয়ান বাহিনীর মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়ানো গেছে।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, জাহাজটির কাছাকাছি এলাকায় একটি রুশ সাবমেরিন ও একটি যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত ছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি রাশিয়া।
গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন কোস্ট গার্ড ‘বেলা ১’ নামের ওই জাহাজে তল্লাশির চেষ্টা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানি তেল পরিবহন করেছে। তবে তল্লাশির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জাহাজটি আকস্মিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে এবং নাম বদলে ‘মেরিনেরা’ রাখে। একই সঙ্গে এটি গায়ানা থেকে রাশিয়ার পতাকায় পুনঃনিবন্ধিত হয় বলে জানা গেছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

