রাতভর বোমাবর্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, ‘আমাদের বুক কাঁপছিল’

বুধবার,

১১ মার্চ ২০২৬,

২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বুধবার,

১১ মার্চ ২০২৬,

২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

রাতভর বোমাবর্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, ‘আমাদের বুক কাঁপছিল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:২৩, ১১ মার্চ ২০২৬

Google News
রাতভর বোমাবর্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, ‘আমাদের বুক কাঁপছিল’

যুদ্ধ শুরুর পর গত সোমবার এক ভয়াবহ রাত পার করেছেন তেহরানের বাসিন্দারা। সে রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে বিশাল শহরটির বিভিন্নস্থানে ভারী বোমা বর্ষণ করে। যা চলে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানের আকাশে খুব নিচু দিয়ে উড়তে থাকে। সেগুলো থেকে কয়েক ডজন ভারী বোমা ফেলা হয়। বিস্ফোরণের শব্দে ১ কোটির বেশি বাসিন্দার এই শহরের অনেক স্থান কেঁপে ওঠে। বিপদের মধ্যেও অনেক বাসিন্দা ঘরের ভেতরেই ছিলেন।

ওই হামলার আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটি হবে ইরানের ভেতরে সবচেয়ে তীব্র হামলার রাত। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, সে রাতে ইসফাহান ও কারাজের মতো শহরেও হামলা চালানো হয়। 

পশ্চিম তেহরানে পরিবারের সঙ্গে থাকা ৩৮ বছর বয়সী সিমা (নাম পরিবর্তিত) বলেন, শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল অনেকগুলো যুদ্ধবিমান মাথার ওপর দিয়ে উড়ছে। এরপর কয়েক মিনিট বিরতি। তারপর আবার নতুন করে হামলা শুরু হয়।

সিমা বলেন, ‘মাটি, জানালা আর আমাদের বুক- সব কাঁপছিল। আমরা বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলাম, সেখানেই রাত পার করি।’ 

আলজাজিরাকে তেহরানের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মঙ্গলবার ভোরের দিকে বিমান হামলার সময় আকাশে তীব্র আলোর ঝলক দেখা যায়। রাত যেন হঠাৎ করে দিনের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। কেউ কেউ ছাদ ও বারান্দায় উঠে সেই দৃশ্য দেখেন, মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অদ্ভুত নীলচে আলোর ঝলক দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বোমাবর্ষণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমন দৃশ্য তৈরি হয়েছিল। তেহরানের কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সরকার জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা সচল করা হয়।

ব্ল্যাকআউট, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

তেহরানের প্রাণকেন্দ্রের একটি এলাকায় থাকেন ২৫ বছর বয়সী আলিরেজা। তিনি জানান, প্রয়োজনের সময় যাতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো যায়, সেজন্য ফ্ল্যাটের দরজা খোলা রাখেন। তেহরানে কোনো সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র বা আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা নেই। গত বছরের জুনেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

আলিরেজা বলেন, তেহরানসহ অন্য শহরে কোথায় কী আঘাত হানল, তা জানার জন্য বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে বারবার ফোন আর মেসেজে যোগাযোগ রাখতে গিয়ে তিনি পাগলপ্রায়। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয় কিছু সেবাভিত্তিক ইন্টারনেট চালু আছে। ফলে তথ্যের প্রবাহ কার্যতই সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস মঙ্গলবার জানিয়েছে, বিশ্বে এখন পর্যন্ত সরকার কর্তৃক আরোপিত সবচেয়ে কঠোর ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরানের ঘটনা অন্যতম। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় সর্বোচ্চ ২০ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের