মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির বিশ্ববাজার

বুধবার,

১১ মার্চ ২০২৬,

২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বুধবার,

১১ মার্চ ২০২৬,

২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির বিশ্ববাজার

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ১১ মার্চ ২০২৬

Google News
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির বিশ্ববাজার

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় বড় ধরনের চাপে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের অবস্থান আবারও শক্তিশালী হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত না থাকায় বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

সংঘাতের শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে ডলারের মতো ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন। সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আভাস দিলেও বাস্তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে ইরানের বাধা দেওয়ার খবর ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বুধবার লেনদেনের শুরুতে কিছুটা ওঠা-নামা করলেও দিন শেষে স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরেছে গ্রিনব্যাক (ডলার)।

অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের মতে, এই সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ওপরই নির্ভর করছে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির গতিপথ। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর (অর্থনৈতিক স্থবিরতার সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি) কবলে পড়তে পারে। এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে মজুত ছাড়ার পরিকল্পনা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটছে না, যার প্রভাব পড়ছে তেলের দামেও।

বুধবারের লেনদেনে দেখা গেছে, ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের দর প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও জাপানি ইয়েন উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান নির্দেশক ‘ডলার ইনডেক্স’ ৯৮.৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। থিংকট্যাংক অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের পরিচালক খালিদ আজিমের মতে, বাজার বড় ধাক্কা সইতে পারলেও ‘অনিশ্চয়তা’ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ঠিক কতটা অস্পষ্ট থাকে, তার ওপরই বাজারের গতি প্রকৃতি নির্ভর করছে।

বাজার বিশ্লেষকরা এখন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। ফেড ফান্ডস ফিউচার্সের হিসাব বলছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও (ইসিবি) তাদের নীতি মূল্যায়নে সময় নিচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেব্রুয়ারি মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে। রয়টার্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোক্তা মূল্য সূচক বা মূল্যস্ফীতি সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্ববাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের