হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ‘স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ’ চালু করেছে। অর্থাৎ সব জাহাজের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের জন্যই চলাচল সীমিত করা হয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি এই জোটে যোগ দিতে মিত্রদের চাপও দিচ্ছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে তার বিপরীতে ইরান দাবি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার শুরুতে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল। তবে এখন তারা বলছে, সেখানে ‘স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর অর্থ, তারা এই প্রণালিতে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখছে, কিন্তু সবার জন্য পথ বন্ধ করে দিচ্ছে না।
ইরানের দাবি, কেবল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং এই যুদ্ধে তাদের সমর্থনকারী মিত্রদের জন্যই প্রণালিটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে ভারতের কিছু তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ইরান বলছে, ভবিষ্যতেও এমন পদ্ধতিই অনুসরণ করতে চায় তারা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে তারা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ অবরুদ্ধ করে দিয়েছে।
তবে ইরান এসব অভিযোগকে অপপ্রচার বলে দাবি করছে। তাদের বক্তব্য, এখনও অনেক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে। পাশাপাশি তারা বলছে, যেহেতু জাহাজগুলো তাদের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তাদের রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় এবং চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের একটি স্পষ্ট কৌশল রয়েছে। তার যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশ উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি নির্ভরশীল।
এই কারণেই ট্রাম্প মনে করছেন, এসব দেশের উচিত হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে সামরিক সহায়তা বাড়ানো। তবে এই আহ্বানের সঙ্গে বাড়তি চাপও রয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটো মিত্ররা যদি তাদের সহায়তা বাড়াতে এগিয়ে না আসে, তাহলে ন্যাটোর সামনে ‘খুব খারাপ ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করতে পারে।
তিনি একই সঙ্গে চীনকেও আলোচনায় টানার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি চীনও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে উদ্যোগ না নেয়, তাহলে চলতি মাসের শেষ দিকে চীনে নির্ধারিত একটি শীর্ষ সম্মেলনে তার সফর পিছিয়ে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতিকে অনেকেই সামরিক কৌশল ও কূটনীতির মিশ্র প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো— হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব ভাগ করে নেয়া এবং জ্বালানি পরিবহন অব্যাহত রাখা, যাতে বড় ধরনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো যায়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

