কী কথা হলো শি জিনপিং-কিম জং উনের

মঙ্গলবার,

০৯ জুন ২০২৬,

২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

০৯ জুন ২০২৬,

২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Radio Today News

কী কথা হলো শি জিনপিং-কিম জং উনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:০৯, ৮ জুন ২০২৬

Google News
কী কথা হলো শি জিনপিং-কিম জং উনের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যতই পরিবর্তন হোক না কেন, চীন- উত্তর কোরিয়ার বন্ধুত্বে কোনো পরিবর্তন হবে না।’ পাশাপাশি তিনি কিম জং উনের প্রতি দৃঢ় সমর্থন বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শি। প্রায় সাত বছর পর হওয়া এই সফরে সন্তোষ প্রকাশ করে চীনের নেতা বলেন, নতুন যুগে শীর্ষ পর্যায়ের পরিকল্পনা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনাকে শক্তিশালী করতে তিনি কিমের সঙ্গে কাজ করবেন।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য শি জিনপিং সীমান্ত ক্রসিং উন্মুক্ত করা, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং আন্তর্জাতিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

শি বলেন, দুই পক্ষের উচিত বন্ধুত্বের উত্তরাধিকারকে চালিকাশক্তি হিসেবে ধরে রাখা। নিজেদের জনগণের মধ্যকার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। তিনি উল্লেখ করেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব দুই দেশের জনগণের জন্য মূল্যবান সম্পদ।

শি ও কিমের বৈঠক নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়ার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার নেতার কোনো বক্তব্য নেই। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না সেটিও গণমাধ্যমটি উল্লেখ করেনি।

বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন দশকের পর দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া দেশটির কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনেরও একটি প্রধান উৎস।

বৈঠকে কিমকে শি বলেন, তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। দুই পক্ষের উচিত কূটনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সামরিক ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও বিনিময় আরও জোরদার করা। 

এএফপি লিখেছে, যদিও দুই দেশই তাদের বন্ধুত্বের কথা বলতে বেশ তৎপর, তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রতি অনড় অবস্থান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেইজিং জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত কোরীয় উপদ্বীপ দেখতে চায়। কিন্তু উত্তর কোরিয়া বারবারই নিজেকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। বিশেষ করে, ২০১৯ সালে অস্ত্র কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে কিম ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে এই দাবি জোরালো হয়েছে।

শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ পর। ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, উভয় নেতা উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে যৌথ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

তবে শির সফরের আগ মুহূর্তে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।
 
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মিনসন কু এএফপিকে বলেছেন, বেইজিং সম্ভবত উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিয়েছে। তবে এই সফরে শি হয়তো অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে স্থিতিশীলতাকে বেশি প্রাধান্য দেবেন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের