মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েল যখন প্রকাশ্যে লক্ষ্যবস্তু করে মানুষ হত্যা করছে, তখন বিশ্ব সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের সামিট হলে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির স্মরণে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের কাছ থেকে এই ধরনের হামলা প্রতিরোধের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো ইসরায়েলকে রাজনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সব সংকট ও অস্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলই দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলো কোনো আগ্রাসন শুরু করেনি।
বক্তব্যে তিনি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি নতুন নেতৃত্বের সূচনার কথা উল্লেখ করেন এবং ইসলামী ঐক্য ও সংহতি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। এর জের ধরে কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধ চলার পর, এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শনিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লা মসজিদে হাজার হাজার শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে রাষ্ট্রপ্রধান ও ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণে এই স্মরণ অনুষ্ঠান চলবে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে মূল জানাজার মিছিল হবে। এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ কোমে এবং বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের বাগদাদ, নজফ ও কারবালাসহ প্রধান শিয়া তীর্থস্থানগুলোতে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদের পবিত্র ইমাম আলী রেজা মাজারে চূড়ান্ত জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

