তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রোববার প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা লাখো শোকাতুর মানুষ জানাজায় অংশ নেন। ছিলেন পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য।
জানাজায় ইমামতি করেন ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলী খামেনির পাশাপাশি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের চার সদস্যের জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এচেই। এছাড়া, আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার আহমাদ ভাহিদি ও কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানিকেও জানাজায় দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, জানাজায় আলী খামেনির ছেলে মাসুদ, মেয়সাম ও মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অংশ নেননি।
গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, জানাজায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। চারপাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠছে। বলা হচ্ছে- ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক... ইসরায়েল ধ্বংস হোক’। অনেকেই বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত।
খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয় গত শুক্রবার। সেদিন বিদেশি অতিথিরা শ্রদ্ধা জানান। সোমবার তেহরানে শোক মিছিলের আয়োজন করা হবে। মঙ্গলবার শিয়াদের পবিত্র নগরী হিসেবে পরিচিত কোমে স্মরণসভা হওয়ার কথা আছে। বুধবার উড়োজাহাজে করে খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়। এই দুই শহরে ইমাম আলী ও ইমাম হুসাইনের মাজার আছে।
আগামী বৃহস্পতিবার মরদেহ আবারও ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর নেওয়া হবে খামেনির জন্ম শহর মাশহাদে। সেখানে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

