যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দেশটির সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর ২০২৫ সালের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট প্রজনন হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট) প্রতি নারীতে ১ দশমিক ৬ সন্তান, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ১ সন্তানের প্রতিস্থাপন হারের তুলনায় অনেক কম।
সাম্প্রতিক এ প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সিডিসির তথ্য বলছে, ২০০৭ সালের তুলনায় দেশটিতে জন্মহার প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে তরুণীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের হার কমে যাওয়ার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিশোরীদের জন্মহার এখন রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে। একই সঙ্গে বিশের গোড়ার দিকের নারীদের মধ্যেও সন্তান নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে একসময় মাতৃত্বের সাধারণ সময় হিসেবে বিবেচিত বিশের শেষভাগ ও ত্রিশের শুরুর বয়সে এখন অনেক নারীই সন্তানহীন থাকছেন।
তবে গবেষকদের মতে, নারীরা মাতৃত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন—এমনটি নয়। বরং অনেকেই উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কারণে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় সন্তান না নেওয়ার পথও বেছে নিচ্ছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীরা। তবে সন্তান নেওয়ার বয়স ক্রমেই পিছিয়ে যাওয়ায় দেশটিতে প্রায় অর্ধেক নারী ত্রিশের শুরুর দিকে পৌঁছেও মা হননি।
পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর গবেষণা বলছে, সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক কাঠামো, শ্রমবাজার এবং দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

