মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত একটি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বুধবারের মধ্যে চুক্তিটির বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
চুক্তির আওতায় বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পেতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, চুক্তিটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। এর মেয়াদ ৩০ বছর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজে মার্কিন কোম্পানিগুলো যুক্ত থাকবে।
টাইমসের পাশাপাশি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। টাইমস জানিয়েছে, ওয়াশিংটন-রিয়াদ যৌথ সমীক্ষার পর সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতিও চুক্তির আওতায় থাকতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হলে বাধার মুখে পড়তে পারে। কারণ অনেক আইনপ্রণেতা আশঙ্কা করছেন, সৌদির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার আশা পূরণে সাহায্য করলে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ও এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার নতুন পথ খুলে যাবে।
সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ)-এর সদস্য দেশ। ভিয়েনাভিত্তিক এই সংস্থা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কাজ প্রচার করে। একইসঙ্গে কোনো দেশ গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে কি না তা যাচাই করতে পরিদর্শনও করে।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্ষেত্রে চুক্তিতে আইএইএ-এর ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রোটোকল থাকলে আরও বেশি পর্যবেক্ষণ, পরিদর্শন ও যাচাইয়ের সুযোগ পেত সংস্থাটি।
সৌদির সঙ্গে চুক্তি অনুমোদনের খবরটি সামনে এলো মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই যুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তেহরানের দাবি, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ।
নতুন চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও রিয়াদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল টাইমস। তবে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করা হয়নি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

