দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসে কঙ্গোয় মৃত্যু ছাড়ালো ১৭০০

বুধবার,

০৫ আগস্ট ২০২৬,

২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বুধবার,

০৫ আগস্ট ২০২৬,

২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসে কঙ্গোয় মৃত্যু ছাড়ালো ১৭০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩২, ৫ আগস্ট ২০২৬

Google News
দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসে কঙ্গোয় মৃত্যু ছাড়ালো ১৭০০

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ ও ভ্যাকসিনের পরীক্ষা নজিরবিহীন গতিতে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিরল বুন্দিবুগিও ধরনের ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাব গত ১৫ মে ঘোষণার পর থেকে ৩ হাজার ৮০২ জনকে আক্রান্ত করেছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৭০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ১৭ হাজারেরও বেশি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই মহামারি এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব এবং সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। ভাইরাসের অন্যান্য ধরনের বিপরীতে বুন্দিবুগিও ধরনের ইবোলার জন্য কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা এখনো নেই।

জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডব্লিউএইচও-এর আর অ্যান্ড ডি ব্লুপ্রিন্ট কর্মসূচির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ভাসী মুরথি জানান, আগে থেকে নেয়া কয়েক বছরের প্রস্তুতির কারণে গবেষকরা এবার অনেক দ্রুত পরীক্ষামূলক ওষুধের ট্রায়াল শুরু করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর তুলনায় এবার আমরা অনেক দ্রুত ট্রায়াল শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রি-ক্লিনিক্যাল উপাত্তগুলো আশাব্যঞ্জক।’ তবে ওষুধ ও ভ্যাকসিনগুলো কার্যকর কি না, তা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস মঙ্গলবার কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছার কথা রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তিনি প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল বুনিয়ায় যাবেন। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মহাপরিচালক জঁ কাসেয়াও বুনিয়া সফর করছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রাদুর্ভাব কখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রাদুর্ভাবটি মূলত পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে কেন্দ্রীভূত, যেখানে মোট আক্রান্তের প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কিসানগানি শহরসহ আরও পাঁচটি প্রদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে ১০০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ে দেরি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের অনাস্থার কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে থাকায় সম্মুখসারির কর্মীদের মধ্যেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বকেয়া বেতনের দাবিতে মঙ্গবওয়ালু শহরের স্বাস্থ্যকর্মীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেতন পরিশোধ না করলে কর্মসূচি জোরদারের হুমকি দিয়েছেন। এর আগে ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত ও ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। কঙ্গোর প্রতিবেশী উগান্ডা গত জুনের মাঝামাঝি নিজেদের ইবোলামুক্ত ঘোষণা করেছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের