প্রিয়জনের ছবি নিয়ে হাসপাতাল থেকে মর্গে ছুটছেন স্বজনরা

শুক্রবার,

২৮ আগস্ট ২০২৬,

১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

শুক্রবার,

২৮ আগস্ট ২০২৬,

১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

নেপালে বন্যা

প্রিয়জনের ছবি নিয়ে হাসপাতাল থেকে মর্গে ছুটছেন স্বজনরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩৪, ২৮ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২২:৩৫, ২৮ আগস্ট ২০২৬

Google News
প্রিয়জনের ছবি নিয়ে হাসপাতাল থেকে মর্গে ছুটছেন স্বজনরা

হাসপাতালের দেয়ালে সাঁটানো স্বজনের ছবি। পাশে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম, ফোন নম্বর ও পরিচয়। কোথাও ভর্তি রোগীদের তালিকা, কোথাও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের নাম। আর মর্গের দরজায় উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি। এক তালিকা থেকে আরেক তালিকা, হাসপাতাল থেকে মর্গ- প্রিয়জনের সন্ধানে এভাবেই ছুটছেন নেপালের মানুষ। তবু আশা ছাড়ছেন না তারা- হয়তো কোনো এক হাসপাতালেই মিলবে প্রিয় মানুষটির সন্ধান।

গত বুধবার তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন উত্তর নেপালে আকস্মিক বন্যার পর এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। এ ঘটনায় ৫৭৯ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে প্রতিদিনই আসছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা। কেউ দেয়ালে প্রিয়জনের ছবি সাঁটাচ্ছেন, কেউ হাসপাতালের তালিকায় নাম খুঁজছেন। তালিকায় নাম না পেলে ছুটছেন মর্গের দিকে। তাদের সবার মনে একটাই প্রশ্ন- প্রিয় মানুষটি কি এখনো বেঁচে আছেন?

২৩ বছর বয়সী ভাতিজা সুদর্শনকে খুঁজছেন লোকনাথ চৌলাগাইন। সুদর্শন বাসের কন্ডাক্টর। তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন তিমুরে একটি চেকপোস্টে অপেক্ষা করার সময় আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বন্যার পর স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে সুদর্শনের ফোনে কল যায়। ফোনটি বেজেছিল, কিন্তু তিনি কল ধরেননি। এরপর থেকে তার ফোন আর পাওয়া যাচ্ছে না। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতাল পর্যন্ত তাকে খুঁজেছেন স্বজনেরা। কিন্তু এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

লোকনাথের মতো হাজারো মানুষ এখন একই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশাটুকু ধরে রেখেছেন তারা। আবার মনে উঁকি দিচ্ছে সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কাও।

নিখোঁজ স্বামী অর্জুন শ্রেষ্ঠাকে খুঁজছেন লাল কুমারী। লাল শাড়ি ও ব্লাউজ পরা এই নারীর গলায় নেপালের বিবাহিত নারীদের ঐতিহ্যবাহী কাচের পুঁতির মালা। তার স্বামী পর্যটকবাহী ভ্যানের চালক। বয়স ৪০-এর কাছাকাছি। রাসুয়া জেলায় বন্যার স্রোতে তিনি ভেসে যান।

তিন সন্তানের মা লাল কুমারীর মনে এখন একটিই প্রশ্ন- অর্জুন কি কোনোভাবে এখনো বেঁচে আছেন?

ধ্বংসস্তূপে পরিণত ত্রিশুলি
আকস্মিক বন্যার দুই দিন পরও নেপালে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র স্পষ্ট হয়নি। গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলের ভুটেকোশি নদীতে পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়। বরফ, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নিয়ে নেমে আসা সেই ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিমুর, রাসুওয়াগাধি ও সিয়াব্রুবেশি এলাকা।

বন্যার স্রোত নিচের দিকে নেমে ত্রিশুলি ও নুয়াকোট অঞ্চলের ঘরবাড়ি, বাজার, সেতু, বিদ্যুতের খুঁটি ও যানবাহন ভাসিয়ে নেয়। একসময় ব্যস্ত থাকা ত্রিশুলি বাজার এখন কাদা, পলি ও ধ্বংসস্তূপে ঢাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়িতে ফিরে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করা অনেক ভারতীয়ও রয়েছেন। 

বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুর্গত এলাকাগুলোতে একটানা হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ও বন্যার স্রোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তুলনামূলক কম আহত ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের হেলিপ্যাডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর বড় হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হচ্ছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের