রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশ, ৭ সংগঠনের প্রতিবাদ

শনিবার,

২৯ আগস্ট ২০২৬,

১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

শনিবার,

২৯ আগস্ট ২০২৬,

১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশ, ৭ সংগঠনের প্রতিবাদ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:০৬, ২৮ আগস্ট ২০২৬

Google News
রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশ, ৭ সংগঠনের প্রতিবাদ

প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের দাবিতে দেওয়া আইনি নোটিশের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন। 

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণকে সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সম্মিলিত এক প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনগুলো বলেছে, ‘রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণকে সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি কোনোভাবেই সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই টেলিভিশন মাধ্যমের সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা নোটিশের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ জারির বিষয়টি টেলিভিশন ও বিনোদন অঙ্গনের শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক, কলাকুশলী এবং বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবাদলিপিতে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পীর মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। তবে একটি সম্পূর্ণ সৃজনশীল মাধ্যমের নির্দিষ্ট একটি ধারা বন্ধের উদ্যোগ টেলিভিশনশিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

প্রতিবাদলিপিতে আবারও বলা হয়েছে, ‘রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণকে সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি কোনোভাবেই সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছে সাত সংগঠন।

সংবাদমাধ্যমে পাঠানো ওই প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন।

এ ছাড়া স্বাক্ষর করেছেন ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সাহিল রনি, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান মানিক।

এর আগে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সৃজনশীল মেধা বিকাশের কথা উল্লেখ করে শুধু প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

একই সঙ্গে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির দাবিও জানানো হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান বলে জানান।

নোটিশে দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটকে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্যের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, এর ফলে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। নোটিশদাতার দাবি, এসব কনটেন্টে পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সমাজের প্রচলিত নৈতিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ ধরনের কনটেন্টের সঙ্গে যুবসমাজের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের প্রতি অমনোযোগিতা এবং পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এ অবস্থায় যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নোটিশদাতা তাঁর দাবির পক্ষে সংবিধানের ২১(১), ৩৯ ও ২৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্‌ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বিধি-নিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে নোটিশদাতাকে জানাতে হবে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের