হলিউড অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রসাধনী ব্র্যান্ড নিউট্রোজিনা। অভিনেত্রীর মৃত্যুর কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে ব্র্যান্ডটির পুরনো সম্পর্ক ও একটি অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এর জেরে সমালোচনার মুখে পড়ে নিউট্রোজিনা। (দ্য গার্ডিয়ান)হেইডেন ১৬ আগস্ট ২০২৬ সালে ৩৬ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর ২০২৬ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা (This Is Me: A Reckoning) এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে করা তাঁর পুরনো বক্তব্য নতুন করে সামনে আসে।(পিপল)
নিউট্রোজিনার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক
হেইডেন প্রায় এক দশক নিউট্রোজিনার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন।২০০৫ সাল থেকে ব্র্যান্ডটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ২০১৪ সালে মেয়ের জন্মের পর হেইডেন প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। ২০১৫ সালে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি ভয়ংকর হলেও এ নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।
কী অভিযোগ করেছিলেন হেইডেন?
২০২৬ সালের স্মৃতিকথা এবং মে মাসে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে হেইডেন দাবি করেন, প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পর নিউট্রোজিনা তাঁর সঙ্গে চুক্তি শেষ করতে চেয়েছিল।
তাঁর দাবি ছিল, চুক্তিতে থাকা একটি ‘মোরালিটি ক্লজ’-এর কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। হেইডেনের প্রতিনিধিরা তখন বিষয়টিতে আপত্তি জানান। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি চললেও পরবর্তী সময়ে তা আর নবায়ন করা হয়নি—এমনটাই ছিল হেইডেনের বক্তব্য।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি হেইডেনের নিজের বক্তব্য।
নিউট্রোজিনার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে তাঁকে প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা নিয়ে কথা বলার কারণে চুক্তি না নবায়নের বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করা হয়নি।
মৃত্যুর পর কেন আবার বিষয়টি সামনে এলো?
হেইডেনের মৃত্যুর পর তাঁর পুরোনো সাক্ষাৎকার ও অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে একজন অভিনেত্রীকে পেশাগতভাবে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল কি না।
এর পর নিউট্রোজিনাকে ঘিরে অনলাইনে সমালোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ ব্র্যান্ডটি বয়কটের কথাও বলেন।
অবশেষে মুখ খুলল নিউট্রোজিনা
সমালোচনার মধ্যে ২০ আগস্ট নিউট্রোজিনা হেইডেনের মৃত্যুর বিষয়ে বিবৃতি দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অভিনেত্রীর সঙ্গে এক দশকের বেশি সময়ের সম্পর্ক নিয়ে তারা গর্বিত। একই সঙ্গে স্বীকার করে, কঠিন সময়ে হেইডেন নিজেকে তাদের কাছ থেকে অসমর্থিত মনে করেছিলেন।
ব্র্যান্ডটি আরও জানায়, নারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে এবং বিশেষ করে প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার চিকিৎসা ও সহায়তার সুযোগ বাড়াতে একটি দীর্ঘদিনের কমিউনিটি হেলথ পার্টনারের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করবে।
তবে নিউট্রোজিনার এই বক্তব্যের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা পুরোপুরি থামেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হেইডেন জীবিত থাকাকালে বিষয়টি নিয়ে কেন এমন বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে, হেইডেন প্যানেটিয়েরের মৃত্যুর পর তাঁর পুরোনো অভিযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান এবং নিউট্রোজিনার সাম্প্রতিক বিবৃতি—সবকিছু মিলিয়েই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই পুরোনো সম্পর্ক।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

